আরব দেশে আছে যত হিন্দু মন্দির

মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে পরিচিত আরব দেশগুলো। ইসলাম ধর্মের গোড়াপত্তন এবং প্রচারও শুরু হয় আরব দেশগুলো থেকে। তাই, ইসলাম ধর্মের প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ বেশিরভাগ স্থাপনাগুলো আরব অঞ্চলে অবস্থিত। ইসলাম ধর্মের প্রাধান্য থাকায় এই দেশটিতে অন্য ধর্মের মানুষের কী অবস্থা তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই রয়েছে জানার আগ্রহ।

বাংলাদেশে মুসলমানদের পরই সংখ্যার দিক থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অবস্থান, আবার পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত হিন্দুপ্রধান। তাই এই অঞ্চলের মানুষের কাছে অন্য ধর্মের চেয়ে আরব দেশগুলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অবস্থা জানার প্রতি আগ্রহটা একটু বেশিই।

রবিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবিতে একটি হিন্দু মন্দিরের উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আরব দেশগুলোতে থাকা হিন্দু মন্দির নিয়ে জানার আগ্রহও আরও বেড়েছে।

মুসলিম প্রধান হলেও আরব দেশগুলোতেও রয়েছে কিছু হিন্দু মন্দির। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ওমান এবং বাহরাইনে এসব মন্দিরের অবস্থান। প্রতিবেশী দেশ সৌদি আরবে বসবাসকারী ও কর্মরত হিন্দুরা ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় এই মন্দিরগুলোতে পূজা দিতে আসেন।

দুবাইয়ের একটি হিন্দু মন্দিরে রাখা বিগ্রহ/বিবিসি

বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত শ্রীনাথজির মন্দির। এই মন্দিরটির বয়স প্রায় ১০০ বছর। সিন্ধি হিন্দু সম্প্রদায় এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন।

ওমানের রাজধানী মাসকাটে রয়েছে দুটি হিন্দু মন্দির রয়েছে। এর মধ্যে ভগবান শঙ্করের মতিশ্বর মন্দিরটি ওল্ড মাসকাটের মুত্তরা এলাকায় অবস্থিত।

মতিশ্বর মন্দির মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীনতম হিন্দু মন্দিরগুলোর মধ্যে একটি। এই মন্দিরটির দেড়শো বছরেরও বেশি পুরনো। সেখানে বসবাসকারী গুজরাটি সম্প্রদায়ের প্রতি বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে ওমানের সুলতান এই মন্দিরটি তৈরি করেছিলেন বলে জানা গেছে।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে নতুন চালু হওয়া মন্দিরটির নাম স্বামী নারায়ণ মন্দির। আবুধাবির আবু মুরেইখাহতে ২৭ একর জমির ওপর তৈরি হয়েছে এই মন্দির। এটির পুরো নাম বোচাসনওয়াসি অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা মন্দির। ২০১৯ সাল থেকে এই মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

দুবাইয়ের একটি গুরুদুয়ারা/বিবিসি

এছাড়া বহু দশক আগে থেকেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে দক্ষিণ ভারতীয় ছাড়াও, সিন্ধি, মারাঠি, গুজরাটি, পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষের জন্য উপাসনাস্থল রয়েছে। আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান, উত্সব এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র মন্দিরে হয়। দুবাই ও তার আশপাশের কিছু শহর এবং উপসাগরীয় বিভিন্ন অংশে দীপাবলির রাত উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা