ঢাকা শহরে কত মানুষ থাকেন? এক বছর আগে সরকারি একটি হিসেবে এই জনসংখ্যা প্রায় সোয়া দুই কোটি বলে জানা যায়। তবে বাস্তবে এটি আরও বেশি। অথচ, দুই ঈদে অন্য এক ঢাকাকে দেখতে পাই আমরা; ছোট্ট এই শহরের রাস্তাগুলো ফাঁকা, বাজার-শপিংমল- কোথাও কেউ নেই।
ঈদের কদিন আগে থেকেই ঢাকা ছাড়তে থাকে মানুষ। মানুষের ঢাকায় আসার কারণের শেষ নেই। তবে মূল কারণটা কর্মসংস্থান। পেটের দায়ে বাধ্য হয়েই অধিকাংশ মানুষ ঢাকায় আবাস গড়েন। এর বাইরে চিকিৎসা, শিক্ষা; আরও কত-কী।
এত এত মানুষের ছোট শহর ঢাকায় যেন ঈদে কাকপক্ষীরও দেখা মেলা ভার। এই যেমন ঈদ-উল-ফিতরের আমেজ শুরু হয়েছে। ঢাকা থেকে বের হওয়ারও একরকম প্রতিযোগিতা চোখে পড়ছে রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট কিংবা বিমান বন্দরে; এমনটা প্রতিবারই হয়ে থাকে। সবাই কত আগে নিজ গ্রামে বা জন্মভূমিতে ফিরতে পারবে সেটিই যেন এখনকার একমাত্র লক্ষ্য। কিন্তু কেন?
কারণও আছে বৈকি। ঢাকা শহর কঠিন, কিন্তু মানুষগুলো যেখানে ফিরে যাচ্ছেন সেখানে জড়িয়ে আছে মায়া। আছে শীতল বাতাস আর আবেগ জড়ানো শৈশবের স্মৃতি। যা এই যান্ত্রিক ঢাকায় পাওয়া সম্ভব নয়।
যারা ফিরে যাচ্ছেন তাদের কাছে গ্রাম, জন্মভূমি কিংবা সেখানকার প্রিয় মানুষদের কথা মনে পড়লে বুকের ভেতরটায় মোচড় দিয়ে ওঠে। সেখানকার বাতাসটা গায়ে লাগলেই যে শৈশব বা পুরোনো দিনের স্মৃতিগুলো ভেসে ওঠে।
আপনি যত দিন পরেই ঢাকায় আসুন না কেন, শহর ঢাকার খুশি হওয়ার কারণ নেই। কিন্তু ওই গ্রামে ফিরে যান; দেখবেন কেমন আতিথেয়তা আর হৃদ্যতা। আপনার ফিরে যাওয়াতে শুধু নিজ বাড়ি নয়, মহল্লা বা গ্রামও যেন সরগরম হয়ে উঠবে। মানুষগুলোর যেন উৎসবটা শুরু হয় এই দূর থেকে ফিরে আসা অতিথিদের নিয়েই।
এই সুযোগে ক্ষণিকের জন্য হলেও শৈশবের খেলার মাঠ, পুকুর পাড়, প্রিয় স্কুল দেখা হয়ে যাবে; যেগুলোর অনেক কিছুই বদলে গেছে। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে। এসব তো মুদ্রার বিনিময়ে পাওয়া যায় না।
এজন্যই একরকম সংগ্রাম করেই বাড়ি ফিরতে হয়। বাড়ি ফেরার সংগ্রামটাও ঠিক ঢাকা শহরের মতোই কঠিন। একটা টিকেটের জন্য কতশত ভোগান্তি আর বিড়ম্বনা। যদিও সেই টিকেট নামের সোনার হরিণ মেলে, এরপরেও যাত্রাপথ যদি সুখকর হয়।
টিভির পর্দায় প্রতি বছরই দেখা যায় ঈদ সামনে রেখে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের চিত্র। বাস-ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের মতো এই সময়টাতে সড়ক দুর্ঘটনাও নিয়মিত।
এরপরেও বাড়ি যেতে হবে। এই চর্চার কোনো মন্দ নেই।
তবে অসচেতনতায় অনেক সময়ই ঈদে বাড়ি ফেরার আনন্দ বিষাদে পরিণত হতে পারে। এজন্য যেসব বিষয় খেয়াল রাখা উচিত:
যাত্রাপথে ঝুঁকি নেবেন না
অনেকে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য গাড়ির চালককে তাগাদা দেন। এমনটি করবেন না। পাশাপাশি বাস-ট্রেন বা লঞ্চের ছাদে উঠবেন না। প্রয়োজনে একটু পরে যান, তবু ঝুঁকি নিয়ে গণপরিবহনে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
ঘরের বৈদ্যুতিক সুইচ বন্ধ করুন
তাড়াহুড়োয় বাড়ির বৈদ্যুতিক সুইচ অফ করতে ভুলে যেতে পারেন। এই ভুলটি করা যাবে না। ঈদের ছুটিতে যখন আমরা লম্বা একটা ছুটিতে বাড়ি যাই সেসময় অবশ্যই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে প্রতিটি ঘরের লাইট, ফ্যান অফ করা হয়েছে কি-না।
গ্যাস বন্ধ করুন
গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ কিংবা এ সংক্রান্ত দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। তাই এ বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার আগে অবশ্যই গ্যাস সিলিন্ডার বা গ্যাসের লাইন অফ করে রেখে বের হবেন।
তালা লাগান সঠিকভাবে
ঈদের এই সময়টাতে চুরি ডাকাতি বেড়ে যায়। তাই বাড়ি যাওয়ার আগে অবশ্যই বাসায় তালা লাগিয়ে যাবেন এবং প্রয়োজনে বার বার চেক করে দেখবেন তালাটি ঠিকভাবে লাগানো হয়েছে কি না। দামি এবং ভালো মানের তালা লাগান। বাসার সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তারপর বের হবেন।