আসন্ন ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন রাজধানীবাসীদের একটি বড় অংশ। এবার ঈদের ছুটির আগের দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ার কারণে বেশ লম্বা সময় গ্রামের বাড়িতে কাটানোর সুযোগ হচ্ছে অনেকের।
এই দীর্ঘ সময়ের জন্য বাসা ছাড়ার আগে নিরাপত্তার জন্য বেশকিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। চলুন, জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে-
যাওয়ার আগে অবশ্যই বসতঘর পরিপাটি করে রেখে তবেই বের হোন। অপ্রস্তুত ও এলোমেলোভাবে ঘর ফেলে রেখে যাওয়া কখনোই ঠিক হবে না। প্রতিটি ঘর গুছিয়ে রাখুন ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করুন। অনেকেই কোথাও বের হওয়ার আগে তাড়াহুড়োতে ঘর নোংরা করে বেরিয়ে পড়েন। এতে ফিরে এসে নোংরা ঘর দেখলে মেজাজ আরও খারাপ হয় এমনকি তাৎক্ষণিক ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন কেউ কেউ। তাই বের হওয়ার আগে অবশ্যই ঘর পরিষ্কার করে যান।
বাড়ি ছাড়ার আগে ময়লা আবর্জনা ফেলে দিতে ভুলবেন না। তা না হলে সেগুলো পঁচে-গলে ঘরভর্তি দুর্গন্ধ ছড়াবে। বিশেষ করে রান্নাঘর পরিষ্কারের সময় বেশি মনোযোগী হোন।
দীর্ঘদিনের জন্য ঘরের বাইরে গেলে অবশ্যই ফ্রিজ খালি করুন। ফ্রিজে যদি পচনশীল খাবার থাকে তাহলে তা ফেলে দিন না হয় খেয়ে নিন তখনই। এছাড়া ফ্রিজ খালি করে বন্ধ করে গেলে বিদ্যুৎ বিলও বাঁচবে।
লাইট, ফ্যান, টিভি, ওয়াইফাইসহ ঘরের সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস আনপ্লাগ করুন। বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনার থাকলে সেটি বন্ধ করুন ও আনপ্লাগ করুন। গিজার থাকলে সেটিও মনে করে আনপ্লাগ করে রাখুন।
ওয়াশিং মেশিনের ক্ষেত্রেও একই কাজ করা জরুরি। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় অবশ্যই ফ্যান, লাইটসহ সব ধরনের পাওয়ার সুইচ বন্ধ করে যান। না হলে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
গ্যাসের চুলা বন্ধ আছে কি-না নিশ্চিত হোন। অনেক সময় গ্যাসের চুলা ঠিকভাবে বন্ধ হয় না। আগুন না জ্বললেও দেখা যায় আস্তে আস্তে গ্যাস বের হয় চুলা থেকে। এক্ষেত্রে বিস্ফোরণ ঘটার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই ঘর থেকে বের হওয়ার আগে অবশ্যই গ্যাসের চাবি ঠিকমতো বন্ধ করেছেন কি-না তা যাচাই করুন।
ঘরের সব জানালা ও দরজা ভালোভাবে বন্ধ করুন। অবশ্যই ঘরের ফার্নিচার ঢেকে রাখুন। এতে ফার্নিচার কেবল ধূলা-বালিমুক্ত থাকবে।
নগদ অর্থ, গহনাসহ মূল্যবান জিনিস অবশ্যই নিরাপদ কোনো স্থানে রেখে যান। প্রয়োজনে ব্যাংকের লকারে কিংবা নিকট আত্মীয়ের কাছেও রেখে দিতে পারেন।
সব পানির ট্যাপগুলো চেক করে নিন, কোনো খোলা থাকলে তা বন্ধ করুন। এমনকি বাথরুমে বালতি, মগ বা বদনায় পানি রাখবেন না। দীর্ঘদিন জমে থাকা পানিতে মশার প্রজনন ঘটতে পারে।
বারান্দার শখের গাছগুলোতে পানি দেওয়ার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিন। প্রয়োজনে ছাদে বা গ্রাউন্ড ফ্লোরে রেখে বাসার কেয়ারটেকারকে নিয়মিত পানি দিতে বলতে পারেন।
আপনার এই কয়েকটি পদক্ষেপ দীর্ঘসময়ের ছুটিকে করবে নিশ্চিন্ত ও আনন্দময়।



