বিশ্বকাপ ফুটবলের শতবর্ষ উপলক্ষে আগামী ২০৩০ সালের আসরটি বসতে যাচ্ছে এক অভূতপূর্ব আবহে। ইতিহাসের প্রথমবারের মতো তিন মহাদেশের ছয়টি দেশে যৌথভাবে আয়োজিত হবে এই টুর্নামেন্ট। স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে ইতিমধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ছয়টি দেশ: স্পেন, পর্তুগাল, মরক্কো, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা নিশ্চিত করেছে।
ফিফা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোকে ২০৩০ বিশ্বকাপের মূল আয়োজক হিসেবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়। তবে ১৯৩০ সালে ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম আসর বসেছিল দক্ষিণ আমেরিকার দেশ উরুগুয়েতে। সেই ঐতিহাসিক ক্ষণ এবং শতবর্ষকে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ উদ্বোধনী পর্বের তিনটি ম্যাচ দক্ষিণ আমেরিকার তিন দেশ: উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই বিশেষ সম্মানের কারণে দক্ষিণ আমেরিকার এই তিন দেশও স্বাগতিকের মর্যাদা পাচ্ছে এবং বাছাইপর্ব ছাড়াই সরাসরি মূল মঞ্চে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
ফিফার সূচি অনুযায়ী, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ শুরু হবে ৮ জুন এবং পর্দা নামবে ২১ জুলাই। ৪৪ দিনব্যাপী এই আসরটি হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘতম টুর্নামেন্ট। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিন মহাদেশের এই ছয় দেশের ১৮টি শহরের ২১টি স্টেডিয়ামে পুরো টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ আমেরিকায় উদ্বোধনী ম্যাচগুলো শেষ করে দলগুলো ইউরোপ ও আফ্রিকায় গিয়ে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে অংশ নেবে।
আসরের ফাইনাল ম্যাচটি ঠিক কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তবে ফাইনালের দৌড়ে স্পেনের রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের মাঠ ‘সান্তিয়াগো বার্নাব্যু’, বার্সেলোনার ‘স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যু’ এবং মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় নির্মাণাধীন দৃষ্টিনন্দন ‘হাসান-২ স্টেডিয়াম’ জোরালো আলোচনায় রয়েছে। ফিফা জানিয়েছে, আগামী ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত ভেন্যু তালিকার সঙ্গে ফাইনালের মাঠের নামও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, তিন মহাদেশে ছড়িয়ে থাকা এই বিশ্বকাপ আয়োজনের নজির এর আগে কখনো দেখা যায়নি। ফলে ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার এক অনন্য সমন্বয়ে ২০৩০ সালের এই বিশ্বকাপ ফুটবল বিশ্বের অন্যতম স্মরণীয় ও আকর্ষণীয় আসর হতে যাচ্ছে।



