ঈদ-উল-আজহায় পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন মুসলমানরা। যে কারণে কয়েক দিন ধরে গরু বা খাসির মাংস খাওয়ার সুযোগ হয়। টানা মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত দিকটাতেও নজর দিতে হয়। এজন্য তবে পরিমিত খাওয়ার পাশাপাশি নিয়ম মেনে রান্না করা উচিত।
অনেকে ঈদের কয়েক দিন শুধু মাংসই খান। তবে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেড মিট পাতে রাখলেও সবজি ও অন্যান্য খাবার এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। মাংস খেয়েও সুস্থ থাকতে চাইলে কিছু তথ্য জেনে রাখা প্রয়োজন। সেগুলো হলো-
১. যতটা সম্ভব তেল এড়িয়ে যেতে হবে। রান্নায় দৃশ্যমান জমানো চর্বি বাদ দিয়ে রান্না করতে হবে এবং কম তেলে রান্না করতে হবে।
২. আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েসন বলছে, মাংস কাটার সময় ছোট ও পাতলা করে কাটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এতে যেমন কম পরিমাণে খাওয়া হয়, তেমনি ভেতরে চর্বি রয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
৩. মাংস রান্নার আগে সম্ভব হলে মাংস ৫-১০ মিনিট মাংস সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নিলে চর্বির অংশ অনেকটা কমে যায়।
৪. উচ্চতাপে রান্না করতে হবে মাংস।
৫. গরুর মাংস বেশি খাওয়া হলে অন্যান্য প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলুন।
৬. মাংস রান্নার সময় ভিনেগার, টক দই, পেঁপে বাটা ও লেবুর রস ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন এতে চর্বির ক্ষতিকর প্রভাব কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব।
৭. যাদের উচ্চরক্তচাপজনিত সমস্যা আছে বা কো-মরবিডিটি আছে তারা একেবারেই না এড়াতে পারলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ১-২ টুকরো খেতে পারেন। সেক্ষেত্রে মাংস রান্নায় সবজি যেমন কাঁচা পেঁপে, লাউ, চালকুমড়া, টমেটো কিংবা মাশরুম ব্যবহার করতে হবে। তারা মাংসের সঙ্গে সবজি মিশিয়ে কাটলেট বা চপ করেও খেতে পারেন।
৮. প্রতিবেলায় খাবারের সাথে ১ কাপ পরিমাণ শসা, লেবু, টমেটো ইত্যাদির সালাদ রাখতে হবে।
৯. খাবার কিছু সময় পর তালিকায় লেবু পানি বা টক দই রাখলেও তা হজম প্রক্রিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
১০. মাংস খাওয়ার সময় ঝোল বাদে খাওয়া ভালো। আবার ভুনা মাংসের পরিবর্তে কম তেলে গ্রিল, বারবিকিউ করে বা কাবাব করেও মাংস খাওয়া যায়।
১১. তিন বেলা মাংসের তৈরি ভারি খাবার না খেয়ে যে কোনও একবেলা একেবারেই হালকা খাবার যেমন সবজির স্যুপ, সবজি ও ফলের নানা আইটেম রাখতে পারেন।
১২. গরুর মাংস খাওয়ার পরপরই দুধ বা দুধের তৈরি খাবার খাবেন না। এতে হজমের গণ্ডগোল অথবা গ্যাস্ট্রিকের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
১৩. অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে ডায়রিয়া কিংবা অ্যালার্জিজনিত জটিলতা দেখা দিতে পারে। আবার কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যাও দেখা যায় অধিক পরিমাণে লাল মাংস খেলে। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে দূরে থাকতে চাইলে প্রচুর পরিমাণে পানি ও পানিজাতীয় খাবার খাবেন। ডায়রিয়া হলে স্যালাইন খান।



