Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যেসব শারীরিক সমস্যায় বাড়তে পারে হাত-পায়ে ঝিঁঝি ধরা

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘টেম্পোরারি প্যারেসথেশিয়া’

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৫৩ পিএম

হাতে বা পায়ে ঝিঁঝি ধরার বিষয়টি নিয়ে সবারই কমবেশি জানা আছে। সাধারণত, অনেক সময় পা বা হাতের ওপর দীর্ঘক্ষণ চাপ পড়লে বা একই ভঙ্গিতে বসে বা শুয়ে থাকলে সাময়িক যে অসাড় অনুভূতি তৈরি হয়, সেটিকেই সাধারণত "ঝিঁঝি ধরা' বলা হয়ে থাকে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে "টেম্পোরারি প্যারেসথেশিয়া", ইংরেজিতে বলে "পিনস অ্যান্ড নিডলস"।

কেন এমনটা হয়?

মানবদেহের সর্বত্র অসংখ্য স্নায়ু রয়েছে, এই স্নায়ুগুলো মস্তিষ্ক ও দেহের অন্যান্য অংশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করে। বসা বা শোয়ার সময় এই স্নায়ুর কোনও একটিতে চাপ পড়তে পারে। স্নায়ুতে চাপ পড়ার ফলে শরীরের ওই অংশ থেকে তথ্য মস্তিষ্কে ঠিক ভাবে পৌঁছোতে পারে না। ফলে শরীরের ওই অংশে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। এর ফলে ঝিঁঝি ধরতে পারে। এই পরিস্থিতি থেকে চাপ অপসারিত হলে, একসঙ্গে প্রচুর পরিমাণ রক্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রবাহিত হয়। পাশাপাশি, প্রচুর পরিমাণ তথ্য মস্তিষ্কে প্রবাহিত হতে শুরু করে। ফলে সুচ ফোটার অনুভূতি তৈরি হয়।

কোন কোন শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে ঝিঁঝির সমস্যা বাড়ে?

দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবিটিসে ভুগলে তার প্রভাব পড়ে স্নায়ুর ওপর। স্নায়ুর এই সমস্যার কারণেই ডায়াবেটিকদের মাঝেমধ্যেই পায়ে ঝিঁঝি ধরে।

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থার শেষের পর্যায়ে যখন শিশুর ওজন বাড়তে শুরু করে, তখন জরায়ুর চাপে পায়ের স্নায়ুগুলির ওপর চাপ পড়তে শুরু করে। সেই সময় হবু মায়েদের ঝিঁঝির সমস্যা হয়।

ভিটামিন বি ১ ও বি ১২-এর প্রভাবে সারা শরীরে স্নায়ুগুলি ঠিকমতো কাজ করে। শরীরে এই ভিটামিনগুলির ঘাটতি হলেও ঝিঁঝি ধরার সমস্যা বেড়ে যায়।

হাইপোথাইরয়েডিজ়মের ক্ষেত্রে অর্থাৎ যখন শরীরের থাইরয়েড গ্রন্থি ঠিকমতো থাইরয়েড হরমোন ক্ষরণ করতে পারে না তখনও হাতে-পায়ে ঝিঁঝি ধরে।

অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে অ্যালকোহলিক নিউরোপ্যাথির সমস্যা শুরু হয় কারও কারও। এই রোগে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এই রোগীদেরও ঘন ঘন হাতে পায়ে ঝিঁঝি ধরে।

সুষুম্নাকাণ্ডের স্নায়ু কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে রোগী র‌্যাডিকিউলোপাথিতে আক্রান্ত হন। এই অবস্থায় রোগীর হাতে ও পায়ে ঝিঁঝি ধরে ও পরে পিন ফোটার মতো যন্ত্রণা শুরু হয়। কোনো কোনো সময় এই যন্ত্রণা দীর্ঘ সময়ের পরেও কমতে চায় না। তখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন। অনেক সময় অস্ত্রোপচার করানো ছাড়া উপায় থাকে না।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

   

About

Popular Links

x