Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ব্রণ খুঁচিয়ে ভয়াবহ বিপদে তরুণী, যেতে হলো হাসপাতালে

মুখের ত্বকেও রয়েছে সংবেদনশীল স্থান, যেখানে খোঁচালে হতে পারে বিপদ

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৫, ০৫:৩৬ পিএম

মুখের ত্বকে ব্রণ হওয়াটা যে কারো জন্যই বিরক্তির বিষয়। ব্রণ হলে সেটি অনেকেই হাতের নখ দিয়ে খুঁচিয়ে নির্মূল করার চেষ্টা করেন। তবে সেটি কখনো কখনো বিপদ ডেকে আনতে পারে। সম্প্রতি এমনই এক বিপদে পড়েছেন আলিশা মোনাকো নামের এক মার্কিন তরুণী। এর আগেও তিনি বহুবার মুখের ব্রণ হাতের চাপে নির্মূল করার চেষ্টা করেছেন। সফলও হয়েছেন। কিন্তু সপ্তাহ কয়েক আগে নাকের নিচের ব্রণটি নির্মূল করতে গিয়ে হাসপাতালে ছুটতে হয়েছে তাকে।

আলিশার বয়স ৩২। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের বাসিন্দা। এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন আলিশা।

তিনি বলেন, ‘‘কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমার মাথা ঘুরতে শুরু করল তার সঙ্গে ধারালো পিন ফোঁটার মতো তীব্র যন্ত্রণা। ধীরে ধীরে মুখের ডান দিকটা ফুলতে শুরু করল। কান বন্ধ হয়ে গেল। যত সময় যাচ্ছিল, আরও ভয়াবহ অবস্থা হচ্ছিল!’’

আলিশা বলেন, ‘‘আমার নাকের ঠিক নিচে ডান দিকে হয়েছিল ব্রণটা। গত কয়েক মাস ধরেই আমার মুখে ওই ধরনের সিস্ট থাকা ব্রণ হচ্ছিল। এটাও তেমন ছিল। ঘটনাটা যে দিন ঘটে, তার আগের দিনও ব্রণ থেকে সিস্ট বের করার চেষ্টা করেছিলাম। সফল হইনি। মনে হয়েছিল হাতের চাপে বের করার চেষ্টা করলে ব্যাপারটা ঘেঁটে ফেলতে পারি। তাই ঠিক করলাম ব্রণ ফাটানোর জন্য যে পরিশোধন করা 'পিম্পল পপার' পাওয়া যায়, তাই দিয়ে চেষ্টা করব। করলামও। সবই ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু ঘণ্টাখানেক পর থেকেই একটি চিনচিনে ব্যথা আমার নাকের নীচ থেকে ক্রমশ ঠোঁট, গাল, থুতনি হয়ে মাথার ডান দিক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করল। তার পরে ক্রমশ বাড়তে থাকল যন্ত্রণা!’’

তিনি জানান, ৪-৫ ঘণ্টার মধ্যেই তার মুখের ডান দিক অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়।

আলিশা বলেন, ‘‘আমার মনে হচ্ছিল, আমি ডান কানে কিছু শুনতে পাচ্ছি না। তার পরে দেখলাম, আমি হাসতে পারছি না। এমনকি, কথা বলতে গেলেও মারাত্মক যন্ত্রণা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে চিকিৎসকের কাছে যাই। তিনি অবিলম্বে হাসপাতালে যেতে বলেন।’’

আলিশা তার চিকিৎসকের কাছে জানতে পারেন, যে জায়গায় ওই ব্রণ হয়েছিল, সেটি মুখের “মারণ ত্রিকোণ” বলে পরিচিত। যেখানে ব্রণ হলে তা খোঁটাখুঁটি করা এক রকম নিষিদ্ধই। ওই অংশে হওয়া ব্রণ থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি সব থেকে বেশি। কারণ, ওই অংশে ত্বকের নিচে প্রচুর শিরা এবং ধমনী জাল বিস্তার করে রয়েছে। যা সরাসরি মস্তিষ্কের সঙ্গে যুক্ত। তাই এই অংশে সংক্রমণ ঘটলে তা সরাসরি মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলতে পারে। এ থেকে মেনিনজাইটিস, সেপ্টিক ক্যাভরনাস সাইনাস থ্রম্বোসিসের মতো রোগ হতে পারে। যা থেকে অন্ধত্ব, স্ট্রোক, ফেসিয়াল প্যারালিসিস, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। তার উদাহরণও রয়েছে অতীতে।

আলিশা তার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘‘আমার মতো অভিজ্ঞতা যাতে আর কারও না হয়, তার জন্যই এটা জানালাম। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, যদি কারও মুখের ওই মারণ ত্রিকোণে এমন হয়ে থাকে, তবে দয়া করে সেই ব্রণকে নিজে থেকে ঠিক হতে দিন। কিছু করতে যাবেন না।’’

   

About

Popular Links

x