তরমুজের বীজ খেলে কী হয় জানেন?

মৌসুমি ফল হিসেবে তরমুজ অনেকেরই পছন্দের শীর্ষে। বিশেষ করে এই গরমে তরমুজের চাহিদা যেন আরও বেশি বেড়ে গেছে। গরমে একটু আরাম পেতে অনেকেই তরমুজ খাওয়ার পরামর্শ দেন। পানিযুক্ত ফল হওযায় তরমুজ এ সময়টার জন্য বেশ উপকারী।

তবে, খেতে গিয়ে মাঝেমধ্যে অনেকেই তরমুজের বীজ গিলে ফেলেন। বীজ পেটে গেলে কোনো ক্ষতি হবে কি-না ভেবে অনেকের মনে উদ্বেগ কাজ করে।

তবে পুষ্টিবিদরা যা বলছেন তাতে উদ্বিগ্নতার পরিবর্তে খুশি হওয়ারই কথা। পুষ্টিবিদরা বলছেন, তরমুজের বীজে রয়েছে নানান উপকারিতা।

বিভিন্ন গবেষণাতেও উঠে এসেছে তরমুজের বীজের উপকারিতা। চলুন, জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে-

হার্ট ভালো রাখে

ম্যাগনেসিয়ামের খুব ভালো উৎস তরমুজের বীজ। এটা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও হার্টের ছন্দ ধরে রাখতে তরমুজের বীজ বেশ উপকারী।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে জিংক। বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ রোধেও জিংক বেশ কার্যকর। আর এই উপদানটিই রয়েছে তরমুজের বীজে।

পরিপাক উন্নত করে

তরমুজের বীজে রয়েছে আঁশ এবং অপরিশোধিত চর্বি যা হজমে সহায়তা করে। যার ফলে পেট পরিষ্কার থাকে।

ত্বক ও চুল ভালো রাখে

তরমুজের বীজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি অ্যাসিড যা ত্বক ও চুল সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এটা প্রদাহ ও ব্রণ কমাতেও বেশ কার্যকরী।

হাড়ের সুস্থতা

তরমুজের বীজে রয়েছে ক্যালসিয়াম যা হাড় সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। হাড় ছাড়াও পেশির কার্যকারিতা বাড়াতে ও স্নায়ু সচল রাখতে তরমুজের বীজ উপকারী।

তরমুজের বীজ যেভাবে খাওয়া ভালো

উপকারিতা জানার পর অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, তরমুজের বীজ কাঁচা না ভেজে খেতে হবে?

এক্ষেত্রে উত্তর হলো, তরমুজের বীজ রান্না করেও খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া তরমুজের দানা রোদে শুকিয়ে রেখে, পরে ওভেনে বেইক করে সামান্য লবণ বা অন্যান্য উপাদান মিশিয়েও খাওয়া যায়। তরমুজের বীজ গুঁড়া করে তা সালাদ বা অন্যান্য খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

কতটা খাওয়া যেতে পারে

পুষ্টিবিদরা বলছেন, তরমুজের বীজ ভিটামিন, আঁশ, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও প্রোটিনের ভালো উৎস হওয়ায় নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে। তবে এতে ক্যালরি থাকায় প্রচুর পরিমাণে না খাওয়াই ভালো। দৈনিক ৩০ গ্রাম বা এক কাপের তিন ভাগের এক ভাগ খাওয়া যেতে পারে।

যাদের খাওয়া উচিত হবে না

তরমুজের বীজ উপকারী হলেও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় কারো কারো জন্য এটি ক্ষতিকরও হতে পারে।

তরমুজের দানায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ। তাই যাদের পাকস্থলিতে সমস্যা রয়েছে যেমন- অনিয়মিত মল ত্যাগ, তাদের তরমুজের বীজ না খাওয়াই ভালো।

এছাড়াও এতে রয়েছে অ্যালার্জিক উপাদান। তাই যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে তাদের এই বীজ না খাওয়াই ভালো। এই বীজে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে, যা কিডনির সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিকর।

সর্বোপরি, উপকার থাকলে নিয়মিত তরমুজের বীজ খাওয়ার আগে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে ভালো।

সূত্র: হেল্থশটস ডটকম