বাংলাদেশের যেসব জায়গায় চাষ হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম

আমের নাম “মিয়াজাকি”। জাপানি এই আমকে বাংলাদেশে বলা হচ্ছে “সূর্যডিম”। অন্যান্য আমের চেয়ে স্বাদে-গন্ধে আরও বেশ কয়েকগুণ এগিয়ে এই আম। রংটাও ব্যতিক্রম, অনেকটা লালচে। এসব বিশেষত্বের কারণে মিয়াজাকি বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম।

জাপানের এই আমের চাষ বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকার আমচাষিরা শুরু করেছেন মিয়াজাকির চাষ। শুরুতে শখের বশে হলেও এখন বাণিজ্যিকভাবেও চাষ হচ্ছে মিয়াজাকির।

দেশে শুরুর দিকে প্রতি কেজি মিয়াজাকি আম ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। গত বছর অনেক খামারি ২,০০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এর কমেও কেউ কেউ বিক্রি করেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের “বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের” তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ যাবতকালের সর্বোচ্চ ২৫ টন মিয়াজাকি উৎপাদিত হয়েছে। তার আগের বছর হয়েছিল ২৪ টন। বাংলাদেশে এ আম আসার পর এবার সর্বোচ্চ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

দিনাজপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক মো. এজামুল হক বলেন, “মিয়াজাকির ফলন যেমন বাড়ছে, তেমনি এর সঙ্গে বাড়ছে জনপ্রিয়তা। এবার এ পর্যন্ত অন্তত ২০০ চারা উৎপাদন ও বিতরণ হয়েছে। আগে এ আম নিয়ে এতটা আগ্রহ ছিল না।”

বিশেষ করে, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মিয়াজাকি আমের উৎপাদন তুলনামূলক বেশি। সেখানে আম্রপালি বা রাংগুই আমের পাশে সহযোগী হিসেবেই এখনো চাষাবাদ হচ্ছে মিয়াজাকির। খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলায় হচ্ছে মিয়াজাকি আমের চাষ।

সেখানকার চাষিরা বলছেন, পাহাড়ি মাটিতে এ আম খুব ভালো হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে মিয়াজাকির ভালো উৎপাদনের কারণ হিসেবে এখানকার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যকেই মূল কারণ বলে মনে করেন আম বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম রহিম। 

এ ব্যাপারে দৈনিক প্রথম আলোকে তিনি বলেছেন, “পাহাড়ের উঁচু স্থানে দিনে গরম বেশি থাকলেও রাতে তা কমে আসে। এই কম তাপমাত্রা আমের মিষ্টতা তৈরির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। পাহাড়ে এই প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।”

রাজধানীর আসাদগেট এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফলের বাগানেও ছোট কয়েকটি মিয়াজাকি আমগাছ রয়েছে। সেখানেও মিয়াজাকি ভালো ফল দিয়েছে।

মিয়াজাকি অ্যাগ্রিকালচারাল ইকোনমিক ফেডারেশনের হিসাব অনুযায়ী, জাপানের সূর্যডিম বা মিয়াজাকি বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম। জাপানে ২০১৯ সালে এক জোড়া মিয়াজাকির দাম উঠেছিল প্রায় পাঁচ হাজার ডলার, অর্থাৎ চার লাখ টাকার বেশি।

জাপানে মেইজি যুগ হিসেবে ধরা হয় ১৮৬৮ থেকে ১৯১২ সাল পর্যন্ত সময়কে। এ সময়টায় জাপান বিচ্ছিন্ন সামন্ততান্ত্রিক অবস্থান থেকে সরে এসেছিল। এই সময়েই এ আমের উদ্ভব হয়। তবে এর চাষ বেশি করে শুরু হয় গত শতকের সত্তরের দশকে।

মাখনের মতো মোলায়েম, সুগন্ধ আর রসে ভরপুর হওয়ার জন্য এ আমের এত কদর।

বাংলাদেশে শখের বশেই অনেকে এ আমের চারা জাপান থেকে এনে লাগিয়েছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন বাড়ছে। বাংলাদেশে শুরুর দিকে প্রতি কেজি আম ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। গত বছর অনেক খামারি ২,০০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এর কমেও কেউ কেউ বিক্রি করেছেন।

নাটোরের ডিসি কার্যালয়ের কাছে হাজরা নাটোর এলাকায় কৃষিবিদ মীর শাহীনুর রহমানের আমের বাগান রয়েছে। কয়েক বছর ধরেই তিনি মিয়াজাকি আমের চাষ করছেন।

উত্তরের জেলা দিনাজপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার সেন্টারের ক্যাম্পাসে মিয়াজাকি আমের কয়েকটি মাতৃ গাছ আছে। সদর উপজেলার সদরপুরে এই সেন্টার। এগুলো থেকে চারা উৎপাদন করে তা আগ্রহীদের দেওয়ার ব্যবস্থা আছে।

হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক মো. এজামুল হক বলেন, “মিয়াজাকির ফলন যেমন বাড়ছে, তেমনি এর সঙ্গে বাড়ছে জনপ্রিয়তা। এবার এ পর্যন্ত অন্তত ২০০ চারা উৎপাদন ও বিতরণ হয়েছে। আগে এ আম নিয়ে এতটা আগ্রহ ছিল না।”

এদিকে, মিয়াজাকি আম চাষ হচ্ছে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার উত্তর বেতকা মামুদাতপুর গ্রামের রকি শেখের বাগানে। ওই বাগানে ৪টি আমগাছে এ বছর ৩০ কেজির মতো মিয়াজাকি আম উৎপাদিত হয়েছে বলে জানা গেছে।