ঘনঘন সেলফি তোলার অভ্যাস, নিজের বিপদ ডেকে আনছেন না তো?

কিছু হলেই অনেকেই রয়েছেন সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পরেন। সেই সেলফির পোজ আবার বয়সের তোয়াক্কা করে না। সেলফি তোলা মজার, কিন্তু মজা যখন নেশার পর্যায়ে চলে যায়, তখন তার পরিণাম মোটেও ভালো নয়। সতর্কবার্তা বিশেষজ্ঞর।

ভাবছেন, এসব কেজো কথা। না, তা কিন্তু নয়। আপনি যদি সেলফিতে আসক্ত হন কপালে অশেষ দুঃখ অপেক্ষা করছে। ডিজিটাল বিপ্লবের যুগে নতুন রোগের প্রাদুর্ভাবে ভুগতে পারে নতুন প্রজন্ম। সেলফি তুলতে গিয়ে কবজির যন্ত্রণায় হাত নামাতে পারবেন না। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এই সমস্যার নাম দিয়েছেন সেলফি রিস্ট। হাত উঁচিয়ে ছবি তোলার অভ্যাস এখন কমবেশি সবারই। পার্টি হোক বা কার্নিভ্যাল, ফ্রন্ট ক্যামেরা অন করেই ছবি তুলে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট। কিন্তু সেলফি তোলার নেশাই শেষ করে দিতে পারে আপনার কবজি। হতে পারেন পঙ্গু।

প্রত্যেক যুগে নতুন রোগ আসে। একসময় যেমন ছিল টেনিস এলবো। টেনিস বা ক্রিকেট খেলা থেকে এর আমদানি। সেখান থেকে এই নামকরণ। ডিজিটাল যুগে সেলফি থেকেই শরীরে বাসা বাঁধছে কারপাল টানেল সিনড্রম। এর ফলে হাতের পেশির ভিতরে ব্যথা হয়। হাত ও কবজির পেশি শিথিল হয়ে যায়। সেলফি রিস্টের লক্ষণ হল, কবজিতে টনটন করে ব্যথা হবে। অনেকক্ষণ ধরে ফোন ধরে থাকলে বা কবজি বেঁকিয়ে মোবাইলে ছবি তুললেই হতে পারে সেলফি রিস্ট। শেষ কয়েকবছরে এই রোগ বেশি করে ধরা পড়ছে। চিকিৎসকরা এই রোগের নামকরণ করেছেন সেলফি রিস্ট। একটি আইরিশ মেডিক্যাল জার্নালে বেরিয়েছে এই রোগের নামও।

শুধু তাই নয়, সেলফি তুলতে গিয়ে গোটা দুনিয়ায় ঘটছে হাজারও দুর্ঘটনা। বহুতলে, পাহাড়ে বা ট্রেন থেকে সেলফি তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অনেকের। পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন অনেক সেলফি প্রেমী। তবু বন্ধ হয়নি সেলফি প্রেম। ২০১১ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে সেলফি নিতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৫৯ জনের। আমেরিকা, ভারত, পাকিস্তান ও রাশিয়াতে এই সেলফি নিতে গিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা সব থেকে বেশি। শুধু তাই নয়, কথায় কথায় সেলফি তোলার এক ধরনের মানসিক সমস্যাও। ছবির জন্য যে কোনো ঝুঁকি নিতেও পিছপা হন না এরা। তার ফলে এই ধরনের মৃত্যুর সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। মনোবিদদের মতে, ডিজিটাল যুগের প্রজন্ম নিজের চোখে দেখা ছেড়ে সব কিছু সেলফির মাধ্যমেই দেখছেন। আর তার ফলে উপলব্ধি কমে যাচ্ছে ও দুর্ঘটনা বাড়ছে।