১৯৭১ সালে নয়মাস রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক তোফায়েল আহমেদ। যার নেতৃত্বে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সেই উত্তাল সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল পাকিস্তান সরকার।
সোমবার (১ জুন) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে অবসান ঘটলো বাংলাদেশের বর্ণাঢ্য এ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের।
১৯৪৩ সালে ভোলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া এ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর মোট ৮ বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৭০ সালে তিনি জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বাংলাদেশের রাজনীতির দিকপাল হয়ে ওঠা এ বরেণ্য রাজনীতিকের রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়েছিল কলেজ জীবনে। একেবারে তৃণমূল থেকে উঠে এসেছিলেন তিনি।
১৯৬০ সালে তৎকালীন ম্যাট্রিকুলেশন পাসের পর ভর্তি হন বরিশাল ব্রজমোহন কলেজে। সেখান থেকে ১৯৬২ সালে আইএসসি এবং ১৯৬৪ সালে বিএসসি সম্পন্ন করেন। স্নাতক শেষে তোফায়েল ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সম্পন্ন করেন স্নাতকোত্তর।
১৯৬৪ সালে বিএসসিতে পড়াকালে তৎকালীন ইকবাল হল বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক, পরের বছর মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহসভাপতি এবং ১৯৬৬-৬৭ শিক্ষাবর্ষে ইকবাল হল ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন তিনি।
১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত চারটি ছাত্রসংগঠনের সমন্বয়ে “সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” গঠন করে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা কর্মসূচি ১১ দফায় অন্তর্ভুক্ত করে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন। সেইসময় ডাকসুর ভিপি ছিলেন তিনি।
১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সেই অভ্যুত্থানের মুখে বঙ্গবন্ধুসহ সব রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হন আইয়ুব খান। পরদিন তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সভাপতি হিসেবে তোফায়েল শেখ মুজিবুর রহমানকে “বঙ্গবন্ধু” উপাধি দেন তিনি । আইয়ুব খানের পতন হয়েছিল সেই গণঅভ্যুত্থানেই।
ওই বছরই ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরের বছর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি শুরু করা তোফায়েল আহমেদ নৌকা প্রতীক নিয়ে মোট ১২ বার নির্বাচন করেছেন। এরমধ্যে নয়বার সাংসদ হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে, ১৯৭০-এ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ, ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন।
বিবিসি বলছে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরপরই তোফায়েলকে গৃহবন্দি করা হয়। ওইসময় টানা ৩৩ মাস তিনি কারাগারে ছিলেন।
১৯৯২ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন, দীর্ঘ ১৮ বছর দায়িত্বপালন করেছেন তিনি। ২০১০ সালে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হন, সে পদেই ছিলেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।