দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতা এবং অর্থ তছরুপসহ নানা গুরুতর অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাগুরা জেলা আমির ও মাগুরা-২ আসনের দলীয় প্রার্থী অধ্যাপক এম বি বাকেরকে দ্বিতীয়বারের মতো দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর ‘রুকনিয়াত’ (প্রাথমিক সদস্যপদ) আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে মাগুরা জেলা জামায়াতের দোয়ারপাড় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা শুরা ও কর্মপরিষদের বিশেষ সভায় কেন্দ্রীয় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সভায় জামায়াতের যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুবারক হোসেন এই ঘোষণা দেন।
এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও শ্রীপুর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. আলমগীর বিশ্বাস এবং অঞ্চল টিম সদস্য আব্দুল মতিন উপস্থিত ছিলেন।
এম বি বাকেরের অব্যাহতির পর জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সহকারী অধ্যাপক সাঈদ আহমেদ বাচ্চুকে মাগুরা জেলার ‘ভারপ্রাপ্ত জেলা আমির’ এবং সহকারী অধ্যাপক মশিয়ার রহমানকে ‘ভারপ্রাপ্ত জেলা সেক্রেটারি’ হিসেবে নতুন দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
দলীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবং পরবর্তী সময়ে জেলা আমির এম বি বাকেরের বিরুদ্ধে সংগঠনের অভ্যন্তরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে রয়েছে—
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবং পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে সংগঠনের অভ্যন্তরে বৈষম্যমূলক আচরণ, অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতা ও অর্থ তসরুফসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা। এসব অভিযোগ উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে একাধিক লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সংগঠন পরিচালনা, নির্বাচনি তহবিলের অর্থ ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন, সালিশ ও চাকরি বাণিজ্য, জমি ক্রয়-বিক্রয়ে আর্থিক অনিয়ম এবং স্থানীয় নেতৃত্ব নির্বাচনে গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে ব্যক্তি পছন্দকে প্রাধান্য দেয়া।
এছাড়া সঞ্চয়পত্রে অর্থ বিনিয়োগসহ সুদভিত্তিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা এবং মতবিরোধের কারণে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের দায়িত্ব থেকে অপসারণের বিষয়টিও কেন্দ্রীয়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। দলীয় সূত্র জানায়, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
অধ্যাপক এম বি বাকেরের দলীয় শাস্তি পাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত ২০২৫ সালের জুলাই মাসে এক হত্যা মামলার আসামি ও আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার পক্ষে জামায়াতের প্যাডে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছিলেন তিনি, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপরাধে তখন কেন্দ্র তাঁকে এক মাসের জন্য দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল। পরবর্তীতে সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার পর তাঁকে পুনরায় জেলা আমিরের পদে পুনর্বহাল করা হয়। তবে পুনর্বহালের কয়েক মাসের মাথায় আবারও অনিয়মের অভিযোগে পদ হারালেন তিনি।
এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়ে অধ্যাপক এম বি বাকেরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গণমাধ্যমকে জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে জেলা আমিরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তার রুকনিয়াত তিন মাসের জন্য মূলতবি করা হয়েছে।