সম্প্রতি তুরাগ নদের আশুলিয়া ঘাটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাত নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার এবং একই সময় নদীতে কয়েকজন নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তী চার দিনে তুরাগ নদ থেকে একাধিক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুজব, সন্দেহ ও সমালোচনারও জন্ম দেয়।
ঘটনার বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পেতে প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ, নিহতের স্বজন, আইনজীবী এবং মিছিলে অংশ নেওয়া এক আওয়ামী লীগ কর্মীর সঙ্গে কথা বলে এক প্রতিবেদনে বিবিসি বাংলা জানায়, ২২ জুন আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৬০–৬৫ জন নেতা-কর্মী তুরাগ নদে ট্রলারে করে আশুলিয়া ঘাটে যান। মিছিলে অংশ নেওয়া এক কর্মীর দাবি, ঘাটে পৌঁছানোর পর পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী কয়েকজন তাদের ধাওয়া দেয়। এতে অনেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং সাতজন নিখোঁজ হন বলে তিনি দাবি করেন। পরে তাদের মধ্যে অন্তত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে বলেও তার দাবি।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনের আইনজীবী আরিফ সরকার পাভেল। তিনি বিবিসি বাংলার ওই প্রতিবেদনে জানান, তার মক্কেলদের ভাষ্য অনুযায়ী ট্রলার ঘাটে ভেড়ানোর পর ধাওয়া ও হামলার মুখে অনেকে নদীতে ঝাঁপ দেন এবং সেখান থেকেই সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অভিযোগ, নদীতে ঝাঁপ দেওয়া লোকজনকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেলও ছোড়া হয়েছিল।
তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাশেদুদ জামান জানান, সাতজনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হলেও কেউ নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়নি। তার দাবি, পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অন্যরা পালিয়ে যায় এবং নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর সঙ্গে ওই অভিযানের কোনো সম্পর্ক নেই।
ঘটনার পর তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে অন্তত দুজন,আরিফ ও সুমন, ২২ জুনের মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন কর্মী। তবে পুলিশ এ দাবির সঙ্গে একমত নয়।
নিহত সুমনের পরিবারের পক্ষ থেকে তার খালু জুয়েল বাবু জানান, ২২ জুন সুমনের নিখোঁজ হওয়ার খবর তারা মিছিলে থাকা অন্যদের কাছ থেকে জানতে পারেন। পরে নদীতে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। পরিবার জানিয়েছে, সুমন মিছিলে গিয়েছিলেন, তবে তারা প্রকাশ্যে কাউকে দায়ী করেননি এবং অপমৃত্যুর মামলা করেছেন।
এদিকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক ঘটনার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যেহেতু হত্যা মামলা হয়নি, তাই বিষয়টি অপমৃত্যুর মামলা হিসেবেই নথিভুক্ত করা হয়েছে।
মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন মনে করেন, ঘটনাটি নিয়ে যেহেতু পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, জনমনে সন্দেহ এবং একাধিক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা রয়েছে, তাই একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সব সম্ভাবনাই তদন্তের আওতায় আনা উচিত।