রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হলেই সরাসরি কোনো সংসদ সদস্যের পদ বাতিল হয়ে যায় না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি জানান, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জাতীয় সংসদ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠির অপেক্ষায় রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সংবিধান ও আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “শুধু দল থেকে বহিষ্কার করলেই সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদ যাওয়ার সুযোগ নেই। আইনানুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য যদি নিজে দল থেকে পদত্যাগ করেন বা সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দেন, তবেই তার পদ শূন্য হতে পারে। কিন্তু দল কাউকে বহিষ্কার করলে সরাসরি এমপি পদ খালি হয় না। সংসদ স্পিকারের মাধ্যমে ইসিতে কোনো রেফারেন্স বা চিঠি পাঠালে, তা বিচার-বিশ্লেষণ করেই কেবল আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি বিতর্কিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে দলটির গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা অনুযায়ী তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়।
একই সংবাদ ব্রিফিংয়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার। তিনি জানান, কমিশন অক্টোবর মাসকে সামনে রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমেই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করতে চায় ইসি। আবহাওয়ার পূর্বাভাস, শিক্ষার্থীদের সরকারি পরীক্ষা এবং অন্যান্য জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনা করেই নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হবে। সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কোনো ধরনের দূরত্ব নেই বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।