২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, দোকানে ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. আরমান উদ্দিনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা আক্তারের আদালতে মামলাটি করেন জেলার লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ এলাকার প্রবাসী আমির হোসেন।
বাদীর আইনজীবী কবির জিলান জানান, আদালত বাদীর আর্জি গ্রহণ করে ঘটনাটি তদন্তের জন্য সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে (এএসপি) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন: আরমানের সহযোগী মো. আরিফ উদ্দীন, শওকত আলী, মো. আরমান উদ্দিন, মো. আদিল, মো. আনোয়ার ও জয়নাল আবেদীন।
মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্সের মালিক প্রবাসী আমির হোসেনের কাছে ৩ নম্বর আসামি আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রধান আসামি আরিফ উদ্দীন দীর্ঘদিন ধরে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ৩ এপ্রিল রাতে আসামিরা মার্কেটের এক ভাড়াটের দোকানের তালা ভেঙে প্রবেশ করে প্রায় ১১ লাখ ৫৮ হাজার টাকার মালামাল ও ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আসামিরা দোকানে নতুন তালা লাগিয়ে দেয় এবং অন্যান্য ভাড়াটেদের তাঁদের মাধ্যমে বাসাভাড়া দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২০ আগস্ট সকালে আসামিরা পুনরায় ওই মার্কেটে এসে বৈঠক করেন এবং চাঁদার ২০ লাখ টাকা না দিলে দোকান ও ঘরের দখল ছাড়া হবে না বলে হুমকি দেন। এ সময় বাদীকে মারধর করে শারীরিক জখম করা হয় এবং আরমান উদ্দিন মুঠোফোনে বাদীকে তাঁদের কথা মেনে চলতে চাপ দেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী আমির হোসেন জানান, থানায় পুলিশ মামলা গ্রহণ না করায় তিনি ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
তবে চাঁদা দাবি ও মামলার বিষয়ে জানতে এমপি শাহজাহান চৌধুরীর পিএস মো. আরমান উদ্দিনের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।