গণতন্ত্র মঞ্চভুক্ত ছয় শরিক দলের যুব সংগঠনের জোট “যুব গণতন্ত্র মঞ্চ” আত্মপ্রকাশ করেছে।
সোমবার (২ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে এক সভায় এই নতুন জোটের ঘোষণা দেওয়া হয়।
জোটভুক্ত সংগঠনগুলো হলো- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) “জাতীয় যুব পরিষদ”, নাগরিক ঐক্যের “নাগরিক যুব ঐক্য”, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির “বিপ্লবী যুব সংহতি”, ভাসানী অনুসারী পরিষদের “ভাসানী যুব পরিষদ”, গণসংহতি আন্দোলনের “বাংলাদেশ যুব ফেডারেশন” ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের “রাষ্ট্র সংস্কার যুব আন্দোলন”।
নতুন এই জোট ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছে। লিখিত বক্তব্যে জোটের দাবিগুলো তুলে ধরেন নাগরিক যুব ঐক্যের সভাপতি সাম্য শাহ।
১০ দফা দাবি হলো- বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে; অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দিতে হবে; শিক্ষিত-নিরক্ষর বেকারদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বেকারত্ব নিরসন করতে হবে; দেশের সব উপজেলায় শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে হবে; মাদক বাণিজ্য নির্মূল করতে হবে; সরকারি ও বেসরকারি চাকরির পরীক্ষা বাবদ কোনো টাকা গ্রহণ চলবে না; জাতীয় বাজেটে যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোক্তা সহায়তা ঋণ, প্রবাসী ঋণসহ যুব সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে; উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ যুবকদের বিনা জামানতে ঋণ সহায়তা প্রদান করতে হবে; বেকার যুবকদের অন্তত ১০ হাজার টাকা ভাতা প্রদান করতে হবে এবং সংবিধানে কর্মসংস্থানের অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।
নতুন জোট গঠনের বিষয়ে বাংলাদেশ যুব ফেডারেশনের আহ্বায়ক উৎসব মোসাদ্দেক বলেন, “দেশের ইতিহাসে আর কোনো সরকার আওয়ামী লীগের মতো তরুণ-যুবকদের এতো গায়েবি মামলা দিয়ে নিপিড়ীন-নির্যাতন করেনি। এই সরকার ভোটচুরি ও বিপুল অর্থপাচারের মাধ্যমে শুধু দেশ ও যুবকদের ভাগ্য অনিশ্চিত করেনি তারা যুবকদের স্বপ্নও চুরি হয়েছে। আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন করতে চাই।”
সভায় জাতীয় যুব পরিষদের সভাপতি এস এম শামসুল আলম নিক্সন বলেন, “দেশে কোনো জবাবদিহি নেই। সাধারণ মানুষ বাজার করতে পারে না। কোনো সবজি ১০০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। আমরা এই বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে চাই। দেশ থেকে আওয়ামী মাফিয়ারা যে টাকা বিদেশে পাচার করেছে, তা ফেরত আনতে হবে। সেই টাকা দিয়ে শিল্পাঞ্চল করে বেকার সমস্যার সমাধান করা হোক। আমরা মনে করি, এই ফ্যাসিবাদের দুঃশাসনের এটাই শেষ মাস।”
রাষ্ট্র সংস্কার যুব আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মাশকুর রাতুল বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, এই মাসের মধ্যেই সরকারের পতন হবে। দেশের সব বিরোধী দল এ মাসে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলবে। সেই আন্দোলনেই এই সরকারের পতন হবে। এ মাসে না হলে আগামী মাসে হবে। অবশ্যই খুব শিগগিরই পতন হবে।”