‘শোকজের জবাব দিয়ে দুঃখ নয় আনন্দ পেয়েছি’

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এ কে এম শামীম ওসমান আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশের (শোকজ) জবাব দিয়েছেন।

রবিবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির কর্মকর্তা এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ কাজী ইয়াসিন হাবিবের আদালতে হাজির হয়ে জবাব দেন তিনি।

এর আগে, গতকাল শনিবার আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শামীম ওসমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। নোটিশে রবিবার সকালে শামীম ওসমানকে সশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৪ (সদর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য।

নোটিশে বলা হয়, গত শুক্রবার শামীম ওসমানের পক্ষে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় নৌকা প্রতীকের ফেস্টুন, বাদ্যযন্ত্র নিয়ে ভোট চেয়ে মিছিল ও পথসভা করা হয়। এতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। এ কার্যক্রম সংসদ নির্বাচন বিধিমালা ২০০৮-এর ৬(ঘ) এবং ১২ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

রবিবার আদালত থেকে বের হয়ে শোকজ প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, “নির্বাচন কমিশন আমাকে নোটিশ দিয়েছে, গত পরশু নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এবং সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শান্তির মিছিল হয়েছে। সারাদেশে বিএনপি-জামায়াত এবং জঙ্গিরা জ্বালাও-পোড়াও করছে, মানুষ হত্যা করছে এবং রাজনীতির নামে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। এর প্রতিবাদে আমার নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃত্বে মহল্লায় মহল্লায় শান্তি মিছিল করা হয়েছে। শান্তির প্রতীক নৌকার পক্ষে মিছিল হয়েছে। সেই দৃষ্টিতে এই প্রোগ্রামটি রাজনৈতিক প্রোগ্রাম, তাই নির্বাচন কমিশন আমাকে শোকজ নোটিশ দিতে পারে।”

তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে আমি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। অনেকের মুখে চুনকালি দিয়ে নির্বাচন কমিশন প্রমাণ করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন। আমি এর আগে কখনও দেখিনি যে, একটি বা দুটি পত্রিকার রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রার্থীকে তলব করা হয়। যদিও প্রার্থী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। সে হিসেবে আমার দুঃখ পাওয়ার কথা, কিন্তু আমি দুঃখ না পেয়ে আনন্দ পেয়েছি। নির্বাচন কমিশন প্রমাণ করেছে যে, তারা যথেষ্ট শক্তিশালী, তাদের পরিপক্বতা আছে। এই বাংলাদেশে তারা সুষ্ঠু ও সুন্দর একটি নির্বাচন উপহার দিতে পারবে। আপনারা দেখেছেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় আমার ছেলেসহ আমি এসেছিলাম। আমরা নির্বাচন কমিশনের আইন মানার চেষ্টা করেছি।”

শামীম ওসমান বলেন, “জেলা দায়রা জজের (দ্বিতীয়) মাধ্যমে আমি নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছি, যারা নির্বাচনকে বন্ধ করার জন্য সারা দেশে জ্বালাও-পোড়াও বা অগ্নিসংযোগ করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। যাতে জনগণ তাদের ইচ্ছেমতো ভোট কেন্দ্রে দিয়ে ভোট দিতে পারে।”