শেখ হাসিনার রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে যা বললেন জয়

প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, তার মা আর রাজনীতিতে ফিরবেন না।

সোমবার (৫ আগস্ট) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে একথা বলেন সজীব ওয়াজেদ জয়।

জয় বলেন, “কঠোর পরিশ্রম ও উন্নয়নের পরও কিছু লোক তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাওয়ায় তিনি (শেখ হাসিনা) হতাশ হয়েছেন।”

প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় শেখ হাসিনার অবৈতনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন সজীব ওয়াজেদ জয় বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে জানান, তার মা গতকাল রবিবার থেকেই পদত্যাগ করার কথা ভাবছিলেন।

উল্লেখ্য, কোটা সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলনে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন শেখ হাসিনা। এরপর তিনি দেশ ছেড়ে চলে যান।

সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে গণভবন থেকে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনার। এরপর গণভবনে প্রবেশ করেন আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার একটি দল।

এ সময় ছাত্রদের একটি অংশ সংসদ ভবনের গেট ভেঙে ভেতর ঢুকে পড়ে। বিভিন্ন ভিডিওতে সংসদ ভবনের ভেতরে তাদের নাচানাচি করে উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। দেখা গেছে সংসদ ভবনের চেয়ারে বসে ধূমপান করতেও।

এদিকে, গণভবনে প্রবেশের পরে আন্দোলনকারীদের অনেককে গণভবনের বিভিন্ন জিনিস লুপপাট করতে দেখা গেছে। সেখানে থাকা সব জিনিস যে যেভাবে পারছেন নিয়ে নিচ্ছেন। অন্যদিকে সেখানে প্রবেশের পর আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার একটি অংশ নামাজ আদায় করেন।

এর আগে শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপর লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে আসা। তারা উল্লাস প্রকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়।

রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।

সোমবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সেখান দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এর আগে রাজধানীতে আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি ও ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

এদিকে রাজধানী ঢাকার বিজয় সরণিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হচ্ছে। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে একদল মানুষকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যকে হাতুড়ি দিয়ে ভাঙার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

এদিকে এই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

সোমবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সেনাপ্রধান।

সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “রাজনৈতিক ক্রান্তিকাল চলছে। একটি অন্তবর্তী সরকার গঠন করা হবে। সব হত্যার বিচার হবে। সেনাবাহিনীর ওপর আস্থা রাখেন। আমরা রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি।”

জনগণের উদ্দেশে সেনাপ্রধান বলেন, “দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখেন। আপনারা আমার ওপর আস্থা রাখেন, একসাথে কাজ করি। দয় করে সাহায্য করেন। মারামারি সংঘাত করে আর কিছু পাব না। সংঘাত থেকে বিরত হোন। সবাই মিলে সুন্দর দেশ গড়েছি।”

কোন কোন রাজনৈতিক দল সঙ্গে বৈঠক করেছেন—সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে সেনাপ্রধান বলেন, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের ইসলামীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। শিক্ষক আফিস নজরুল ও জোনায়েত সাকিও বৈঠকে ছিলেন।

সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “আমরা এখন বঙ্গবভনে যাব। সেখানে অন্তবর্তী সরকার গঠনের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হবে। তিনি ছাত্রদের শান্ত হওয়ার পরামর্শ দেন।”

সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শেখ হাসিনা বেলা আড়াইটায় বঙ্গভবন থেকে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে উড্ডয়ন করেন। এ সময় তার ছোট বোন শেখ রেহানা সঙ্গে ছিলেন।

জানা গেছে, শেখ হাসিনা যাওয়ার আগে একটি ভাষণ রেকর্ড করে যেতে চেয়েছিলেন। তিনি সে সুযোগ পাননি।