প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে সোমবার দেশ ছেড়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। টানা চারবার ক্ষমতায় আসার পরও ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে হয় তাকে।
শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার পর দ্বাদশ সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন রাষ্ট্রপতি। গঠিত হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
এদিকে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওবার্তা দিয়ে এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরছেন শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।
সর্বশেষ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জয় দাবি করেছেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কখনোই করেননি। তিনি সেই সময় পাননি। জয়ের দাবি, শেখ হাসিনা একটি বক্তব্য দেওয়া ও পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মিছিল নিয়ে আসতে শুরু করে। তাই তার হাতে সময় ছিল না।
একই সাক্ষাৎকারে জয় দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের দমনে শেখ হাসিনা কোনো নির্দেশ দেননি। এমনকি শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী দেশে শেখ হাসিনা বিচারের মুখোমুখি হতে রাজি ছিলেন।
এ প্রসঙ্গে জয় বলেন, “আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী দেশে শেখ হাসিনা বিচারের মুখোমুখি হতে রাজি ছিলেন। আটক করার হুমকি আমার মাকে কখনো বিচলিত করেনি। আমার মা কোনো ভুল করেননি। তার সরকারের কর্মকর্তাদের অবৈধ কাজের অর্থ এই নয় যে এসব করতে আমার মা নির্দেশ দিয়েছিলেন, এর অর্থ এই নয় যে এসবের জন্য আমার মা দায়ী।”
তবে বিক্ষোভ চলার সময় মানুষকে গুলি করার নির্দেশ দেওয়ার জন্য সরকারের মধ্যে কে দায়ী, তা অবশ্য বলেননি জয়।
এ প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, “সরকার অনেক বড় কার্যক্রম। যারা দায়ী তাদের অবশ্য বিচারের আওতায় আনা হবে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা করতে আমার মা একেবারেই কাউকে কোনো নির্দেশ দেননি। পুলিশ সহিংসতা বন্ধ করতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু কিছু পুলিশ কর্মকর্তা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছিলেন।”
জয় আরও বলেন, “আমাদের সরকার এবং আমি এসব আলোচনার অংশ হয়েছিলাম। আমি মাকে বলেছিলাম, আমাদের দ্রুত (আমাদের ছাত্র শাখাকে) হামলা না চালাতে, সহিংসতা বন্ধ করতে বলা দরকার। আমরা শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানো পুলিশ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করেছি। আমাদের পক্ষে যা সম্ভব ছিল, আমরা সব করেছিলাম।”
আওয়ামী লীগ পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নেবে বলেও জানান জয়। আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ারও দাবি জানান সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এই তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা।