শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রাবি ছাত্রদলের আরও এক নেতাকে বহিষ্কার

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের আরও এক নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত ফারুক হোসেন রাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য ফারুক হোসেনকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

এর আগে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে করা একটি মামলা থেকে আইবিএ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সৈকত রায়হানকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ উঠে ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে। মোবাইলে ফোন করে চাঁদা দাবি সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি কল রেকর্ডের খবর কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

কল রেকর্ডের ১ মিনিট ১০ সেকেন্ডের সময় ছাত্রদল নেতা ফারুক বলেন, “আমি তোমার জন্য কি করতে পারি বল?” তখন ছাত্রলীগ নেতা সৈকত বলেন, “ভাই আপনার কিছুই করার নেই, আমি কিছু করলে তবে তো আপনি কিছু করবেন, তাই না?” এ সময় ফারুক বলেন, “যেহেতু আমার কিছু করার নেই, তাহলে তো কথা বলার দরকার নেই।”

ফারুক আরও বলেন, “আমি কি তোমার কাছে চাঁদা চেয়েছি?” এ সময় ছাত্রলীগ নেতা বলেন, “চাঁদা তো না ভাই, আপনি বললেন যে, ছোট ভাই একটু দেখ বিষয়টা। আপনি পরে বললেন, তোমার বাবার সঙ্গে কথা হবে। তোমার বাবাকে টাকা-পয়সা রেডি করতে বল। আর আমি নাকি কার কাছ থেকে চাঁদা চেয়েছি। এটা বলে আপনি আমাকে ভয় দেখাচ্ছেন ভাই।”

এ কথায় ছাত্রদল নেতা বলেন, “আমি তোমায় ভয় দেখানোর কে বল? আমি কি পুলিশ প্রশাসন?” ছাত্রলীগ নেতা সৈকত বলেন, “আমি ছাত্রলীগে ছিলাম। এখন আমার নামে আপনি যা বলবেন, পাবলিক সেটাই খাবে ভাই।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ১৬ জুলাই বিকেলে রাবিতে শহিদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মাদ আহসান হাবিব বাদী হয়ে ছাত্রলীগের ১০১ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২২০ জনকে আসামি করা হয়। গত ৮ অক্টোবর দুপুরে নগরীর মতিহার থানায় দায়ের হওয়া এই মামলা ১৭ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন ছাত্রলীগ নেতা সৈকত রায়হান। তারপর থেকে তিনি জেলে আছেন।

এর আগে, গত শনিবার (১৯ অক্টোবর) দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ রাবি ছাত্রদলের এক নেতা ও এক কর্মীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। অব্যাহতি প্রাপ্তরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবিব এবং কর্মী হাসিবুর ইসলাম হাসিব। তাদের ক্ষেত্রেও মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে এক ছাত্রলীগ কর্মীর সঙ্গে তাদের কথোপকথনের দুটি কল রেকর্ড ফাঁস হয়েছিল।