গতবছরের আগসেট ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে খুলনায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় পালাতে গিয়ে আহত এক বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা “জুলাইযোদ্ধা” হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় সমালোনার সৃষ্টি হয়েছে।
মিনারুল ইসলাম নামের ওই যুবলীগ নেতা গত ১৪ মে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জুলাইযোদ্ধা হিসেবে “সি ক্যাটাগরিতে” এক লাখ টাকার চেক গ্রহণ করেন। এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
এ বিষয়ে খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কে প্রধান করে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ পেলেই অনুদানের অর্থ ফেরত নেওয়া হবে। প্রকৃতপক্ষে অভিযুক্ত মিনারুল ইসলামের নামটি মন্ত্রণালয় থেকে এসেছিল।”
তিনি জানান, ৭ কার্যদিবসের মধ্যে এ তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করবে। এ প্রতিবেদন জেলা পর্যায়ের যাচাই-বাছাই কমিটির সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
জানা গেছে, মিনারুল ইসলাম তেরখাদা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। গতবছরের ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে খুলনার জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্রদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় কার্যালয় থেকে পালাতে গিয়ে আহত হন মিনারুল।
খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, আহত “জুলাইযোদ্ধা” হিসেবে সি ক্যাটাগরিতে খুলনার ৬৩ জনের নামে চেক এসেছে। তাদের মধ্যে ৫০ জন এক লাখ টাকার চেক নিয়েছেন। গত ১৪ মে খুলনার জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের হাত থেকে চেক গ্রহণ করেন মিনারুল।
খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মণ্ডল জানান, উপজেলা পর্যায়ে আবেদন করলে পুলিশ, জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র প্রতিনিধি, হাসপাতালসহ বিভিন্নভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়। পরে জেলা কমিটির সভায় আরেক দফা যাচাই-বাছাই করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মিনারুল নামের ব্যক্তি সরাসরি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। মন্ত্রণালয় থেকে তার আবেদন যাচাই-বাছাই করে গেজেট প্রকাশ করে চেক খুলনায় পাঠিয়েছে।
এদিকে তেরখাদা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এফ এম মফিজুর রহমান বলেন, “তেরখাদা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মিনারুল ইসলাম। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিলে তাকে বহিষ্কার করা হয়। জুলাই আন্দোলনের সময় সে মধুপুরের বাড়িতেই ছিল। ৪ আগস্ট খুলনায় দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশে যোগ দিতে যায়। সেখানে পালাতে গিয়ে টিনের চালে ঝাঁপ দিলে পায়ে কী সমস্যা হয়েছে বলে শুনেছিলাম।”
৪ আগস্ট আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ছিলেন খুলনা জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল।
তিনি বলেন, “৪ আগস্ট মিনারুল আমাদের সঙ্গেই ছিল। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে সে কার্যালয় থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।”