রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বাম সংগঠনগুলোর মোর্চা গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের মশালমিছিলে “শাহবাগবিরোধী ঐক্যের ব্যানারে” ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। এই ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ।
বুধবার (২৮ মে) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ ও সহিংসতার অভিযোগে নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের মুখপাত্র আশরেফা খাতুনের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তি বলা হয়েছে, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এটিএম আজহার ইসলামের মুক্তির প্রতিবাদে আয়োজিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ‘শাহবাগ বিরোধী ঐক্য’ ও ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট’ এর মাঝে শিক্ষাঙ্গনে যে সহিংসতা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ তার তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
আমরা মনে করি, মতপ্রকাশের অধিকার একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে সেই অধিকার চর্চার নামে শারীরিক আক্রমণ, হুমকি কিংবা সহিংসতায় জড়িয়ে পড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিবাদের ভাষা কখনোই পেশি শক্তি হতে পারে না। রাজনীতি চর্চা হোক যুক্তি ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে, না কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় অবস্থান নিয়ে সহিংসতায় জড়ানোর মাধ্যমে- এই মানসিকতা শিক্ষার পরিপন্থী এবং সমাজবিরোধী। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ মনে করে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে নতুন প্রগতিশীল ধারার উন্মেষ ঘটেছে, তা কোনোভাবেই এই ধরনের উগ্র ও অগণতান্ত্রিক আচরণের কাছে পরাজিত হতে পারে না।
আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, ঘটনাটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে চিহ্নিত করে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। শিক্ষাঙ্গন কারও পেশিশক্তি বা দলীয় আধিপত্যের জায়গা নয়- এটি ছাত্রসমাজের যৌক্তিকতা, ন্যায়বিচার ও মুক্তচিন্তার চর্চার পবিত্র ক্ষেত্র। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ সকল গণতান্ত্রিক ও সচেতন ছাত্রসংগঠনের প্রতি আহ্বান জানায়- সহিংসতার বিপরীতে আমরা যেন একটি শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও মুক্ত চিন্তার ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে পারি।”
এর আগে মঙ্গলবার রাতে বাম সংগঠনগুলোর মোর্চা গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের মশালমিছিলে “শাহবাগবিরোধী ঐক্যের ব্যানারে” ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামকে বেকসুর খালাসের প্রতিবাদে মশাল মিছিলের ডাক দেয় গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের নেতা-কর্মীরা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এই মশাল মিছিল হওয়ার কথা থাকলেও সঠিক সময় তা হয়নি। এ খবর পেয়ে শাহবাগ বিরোধী ঐক্যর ব্যানারে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরিবহন মার্কেটের আমতলায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। অন্যদিকে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতা-কর্মীরা মশাল জ্বালিয়ে উচুস্বরে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে সমাবেশে উপস্থিত শিবিরের নেতা-কর্মীরা তাদের দিকে তেড়ে আসেন। এ সময় উভয়পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি করেন।