নাহিদ: মুক্তিযোদ্ধা বনাম রাজাকারের মাধ্যমে হাসিনা দেশকে বিভাজিত করে রেখেছিল

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “মুক্তিযোদ্ধা না রাজাকার—এই বিভাজনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা দেশকে বিভাজন করে রেখেছিল। এই মুজিববাদী আদর্শ ৫০ বছর ধরে দেশকে বিভাজন করে রেখেছিল। ২৪–এর গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই বিভাজনকে আমরা তোয়াক্কা না করে সামনের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলাম।”

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) ভোলা প্রেসক্লাব চত্বরে এনসিপির পথসভায় নাহিদ ইসলাম একথা বলেন।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, “আমরা নতুন বাংলাদেশ সর্বজনের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। যে বাংলাদেশ হবে শ্রমিকের বাংলাদেশ, কৃষকের বাংলাদেশ, মধ্যবিত্তের বাংলাদেশ, আমজনতার বাংলাদেশ, ভোলাবাসীর বাংলাদেশ।”

এদিন দুপু ২টার দিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা ভোলায় এসে পদযাত্রায় অংশ নেন। তারা ভোলা শহর প্রদক্ষিণ করেন। পরে বিকেল ৩টার দিকে ভোলা প্রেসক্লাব চত্বরের পথসভায় অংশ নেন।

পথসভা সঞ্চালনায় ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মুজাহিদুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক কমিটির মুখ্য সংগঠক সালমা আক্তার, ভোলার আহ্বায়ক কমিটির নির্বাহী সদস্য জাহাঙ্গীর আলম।

সভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, “গত বছর ১৪ জুলাই রাত থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলন রাজনৈতিক দিকে রূপলাভ করে। শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিবাদে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ রাজপথে নেমে এসেছিল। আজকে তাদের সম্মান জানাই। জুলাইয়ের নারীদের সম্মান জানাই।”

তিনি বলেন, “সেদিন আন্দোলনকারীদের শেখ হাসিনা রাজাকারের নাতিপুতি বলে গালি দিয়েছিল। সেদিন রাজপথে নেমে এসেছিল আমাদের বোনেরা। ১৫ জুলাই ছাত্রলীগের কর্মীরা আমাদের বোনদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছিল। অত্যাচার চালানো হয়েছিল; কিন্তু আমাদের বোনেরা পিছু হটেননি। আমাদের ভাইয়েরা পিছু হটেনি। তারা প্রতিরোধ তৈরি করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্কুল–মাদ্রাসার ছাত্ররা যোগ দিয়েছিল। সঙ্গে ছিল শিক্ষক সমাজ, অভিভাবক। সাধারণ মানুষের জনরোষেই শেখ হাসিনা পালাতে বাধ্য হয়েছিল।”

এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, “ভোলাবাসী দীর্ঘদিন ভোলা-বরিশাল সেতুর জন্য লড়াই করছে। আপনাদের দাবির প্রতি আমরা সমর্থন জানাই, সংহতি জানাই। ভোলার সঙ্গে অন্য জেলার দূরত্ব ঘোচাতে হবে। ভোলাকে মর্যাদা দিতে হবে। জাতীয় সব সুযোগ-সুবিধার ভাগীদার এই ভোলাকে করতে হবে।”

উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে শুরু হওয়া এই পদযাত্রা এরই মধ্যে রংপুর, খুলনা এবং বরিশাল বিভাগের একাধিক জেলা অতিক্রম করেছে। মাসজুড়ে চলবে এনসিপির পদযাত্রা।