নাহিদ: রংপুরে বাড়িঘরে হামলা ধর্মীয় নয়, লুটপাট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির ঘটনাকে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেছেন, রংপুরে বাড়িঘরে হামলা ধর্মীয় নয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। লুটপাটের উদ্দেশ্যে বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশব্যাপী জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড়ে পদযাত্রা শেষে সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। 

নাহিদ ইসলাম বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে রংপুরের একটি উপজেলায় হিন্দুদের বাড়ি ঘরে হামলা ও লুটপাট করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। আমাদের নবিজিকে সেখানে কটূক্তি করা হয়েছে। আমরা এর অবশ্যই বিচার চাই। কিন্ত সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সভ্যতার ওপর কেউ আঘাত করলে আমরা কখনোই মেনে নেবো না। অন্য ধর্মের ওপর আঘাত করার শিক্ষা আমাদের নবিজি দেননি। নবিজি সব সময়ই অন্য ধর্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেন। এই ঘটনা যারা ঘটাচ্ছে তাদের উদ্দেশ্যে ধর্মীয় নয়; রাজনৈতিক, এবং লুটপাটের উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে।”

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “রংপুরে যারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। যিনি ধর্ম অবমানা করেছেন তাকেও বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমরা ধর্মীয় সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই।”

সমাবেশে এনসিপি আহ্বায়ক আরও বলেন, “মাওলানা ভাসানী শুধু বাংলাদেশ নয় পুরো উপমহাদেশের অন্যতম রাজনৈকিত পুরুষ ছিলেন। ভাসানীর রাজনীতি শুরু হয়েছিল আসামে। আসামে তিনি বাঙালি মুসলমানদের কৃষকদের ভূমির অধিকার এবং কৃষকদের জন্য লড়াই করেছিলেন। সে লড়াই এখন পর্যন্ত আসামে চলমান রয়েছে। মাওলানা ভাসানী প্রথম ব্যক্তি যিনি পাকিস্থানী শাসক গোষ্ঠীদের বিদায় ঘোষণা করেছিলেন কাগমারী সম্মেলনের মাধ্যমে। তিনি একাই বিটিশ ঔপনিবেশদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। মওলানা ভাসানী দিল্লির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তবে যথাযোগ্য মর্যাদায় মাওলানা ভাসানীকে ইতিহাসে স্মরণ করা হয় না। ”

তিনি বলেন, “যারা এই বাংলাদেশের স্থপতি তাদের বাদ দিয়ে একজনকে জাতির পিতা এক ঘোষণা করা হয়েছে। একজনকে গত ৫৪ বছর ধরে পূজা করা হয়েছে। কিন্ত মাওলানা ভাসানী না থাকলে শেখ মুজিব তৈরি হতো না। বাংলাদেশে শুধু একজন জাতির পিতা নন, কয়েকজন জাতির পিতা রয়েছেন। তাদের মধ্যে মাওলানা ভাসানী অন্যতম।”

টাঙ্গাইলের শাড়ি নিয়ে তিনি বলেন, “টাঙ্গাইলের শাড়ি জিআই পণ্য সনদ নিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই স্বত্ব কখনোই ভারত নিতে পারে না। অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করতে হবে। আমরা তাঁত শিল্পকে পুনরুদ্ধার করতে চাই।

কৃষকদের সর্ম্পকে তিনি বলেন, “আমরা কৃষকদের নতুন করে সংগঠিত করতে চাই। আমরা বাংলাদেশের খাদ্য সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে চাই। আমরা কী উৎপাদন করি, কীভাবে তা বন্টন হবে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবে কি-না, এসবের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের ভবিষ্যত। নদী ভাঙনে প্রতিবছর অনেক মানুষ সর্বহারা হয়ে যায়। এই নদী ভাঙন আমাদের ঠেকাতে হবে।”

তিনি বলেন, “গণঅভ্যুথানে টাঙ্গাইল ৯ জন শহিদ হয়েছেন। আমরা শহিদদের ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ তৈরি করবো।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলম, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক আজাদ খান ভাসানী, উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাইফুল্লাহ হায়দার, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক অলিক মৃ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি সদস্য (অব.) মেজর সালাউদ্দিন ও সাইফুল ইসলাম, জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মাসুদুর রহমান রাসেল প্রমুখ।