২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে বড় ধাক্কা খেয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। দলের এক নম্বর গোলরক্ষক ও অন্যতম প্রধান তারকা এমিলিয়ানো মার্তিনেজের হাতে চোট থাকায় তাকে ঘিরে আলবিসেলেস্তে শিবিরে তৈরি হয়েছে গভীর দুশ্চিন্তা। মার্তিনেজের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন দলের কোচিং স্টাফরা।
বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে মার্তিনেজের খেলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া না গেলেও, তিনি পুরোপুরি ফিট হতে পারবেন কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। এই পরিস্থিতির কারণে আসন্ন হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দুটিকে মার্তিনেজের যোগ্য বিকল্প নির্ধারণের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে যাচ্ছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। একাদশে জায়গা পাওয়ার এই লড়াইয়ে অবতীর্ণ হচ্ছেন দলের অন্য দুই গোলরক্ষক গোরোনিমো রুলি ও হুয়ান মুসো।
অতীত রেকর্ড এবং ধারাবাহিকতার বিচারে মার্তিনেজের বিকল্প হিসেবে ফরাসি ক্লাব মার্সেইয়ের গোলরক্ষক গোরোনিমো রুলিই কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন। ৩৪ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক আর্জেন্টিনার সিনিয়র দলের হয়ে ৭টি অফিশিয়াল ম্যাচ খেলেছেন, যার একটিতেও হারেনি দল এবং গোল হজম করেছেন মাত্র ২টি।
২০২৪ সালের নভেম্বরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে পেরুর বিপক্ষে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন রুলি, যেখানে ১-০ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। রুলি আর্জেন্টিনার সেই সোনালী প্রজন্মের অংশ যারা ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ, ২০২২ ফিনালিসিমা এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা জিতেছে। ফলে বড় টুর্নামেন্টের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। গত মৌসুমে মার্সেইয়ের হয়ে ৩৯টি ম্যাচ খেলেছেন রুলি, যেখানে লিগ আঁ-তে পঞ্চম হওয়া দলটির হয়ে তিনি ৫২টি গোল হজম করেন।
অন্যদিকে হুয়ান মুসো আর্জেন্টিনার জার্সিতে রুলির মতো নিয়মিত খেলার সুযোগ না পেলেও, স্প্যানিশ ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে মরশুমের শেষ দিকে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন। মূল গোলরক্ষক ইয়ান অবলাকের চোটের কারণে সুযোগ পেয়ে মুসো আতলেতিকোকে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বিশেষ করে ২০২৬ সালে তার পারফরম্যান্স ছিল চোখধাঁধানো। এ বছর আতলেতিকোর হয়ে খেলা ১২টি ম্যাচের অনেকগুলোতেই তিনি ম্যাচসেরা পারফর্মার ছিলেন। তবে জাতীয় দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা তার বেশ কম। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি অফিশিয়াল ম্যাচ খেলেছেন মুসো, যার সবশেষটি ছিল চলতি ২০২৬ সালে জাম্বিয়ার বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানে জেতা প্রীতি ম্যাচ, যেখানে তিনি ১৬ মিনিট গোলবার সামলান।
আপাতদৃষ্টিতে অভিজ্ঞতার কারণে রুলি এগিয়ে থাকলেও মুসোর সাম্প্রতিক ফর্ম স্কালোনিকে ভাবিয়ে তুলছে। আগামী ৬ ও ৯ জুন যথাক্রমে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠেয় প্রীতি ম্যাচ দুটিতে এই দুই গোলরক্ষককে পরখ করে দেখবে আলবিসেলেস্তেরা। তবে আর্জেন্টিনা শিবিরের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা হয়েছে যে, ফিট থাকলে এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে মার্তিনেজের জায়গা সম্পূর্ণ অটুট। কিন্তু তিনি যদি প্রথম ম্যাচে খেলতে না পারেন, তবে রুলি বা মুসো, যিনিই খেলুন না কেন, আর্জেন্টিনার পোস্ট সামলানোর মতো নির্ভরযোগ্য হাত রয়েছে।