সারা বিশ্বের ন্যায় চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ উন্মাদনার ঢেউ লেগেছে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামাঞ্চলের আনাচে কানাচে। ক্রীড়ামোদি দর্শকদের পছন্দের দল ও সে দেশের পতাকা নিয়ে কত কিছুই না করছেন নিজের পছন্দ দলের ভক্ত দর্শকেরা। ফুটবল নিয়ে এমন একটি আবেগ আর উন্মাদনার ঘটনা ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের খাল্লা গ্রামে।
দক্ষিণ কোরিয়া দলের সমর্থক আবু কাউছার মিন্টু মিয়া। দলকে ভালোবেসে তিনি এবার ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য দক্ষিণ কোরিয়া দলের পতাকাটা টানিয়ে এলাকায় তাক লাগিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিকান্দি ইউনিয়নের খাল্লা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় পুরো গ্রামের রাস্তা দক্ষিণ কোরিয়া দলের পতাকা দিয়ে টাঙানো।
দক্ষিণ কোরিয়া দলের প্রতি ফুটবল ভক্ত মিন্টুর অনুরাগ দেখে এলাকাবাসীও তার সঙ্গে একমত পোষণ করে দক্ষিণ কোরিয়া দলের সাফল্য কামনা করছেন।
মিন্টু ও পরিবারের সদস্যরা জানান, জীবিকার তাগিতে ১৯৯৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়া পাড়ি জমান তিনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিকান্দি ইউনিয়নের খাল্লা গ্রামের বাসিন্দা আবু কাউছার মিন্টু ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপটি তিনি সেদেশের গ্যালারিতে বসেই দেখেন। এসময় দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল দলের তৎকালিন আলোচিত খেলোয়াড় আঞ্জুয়ানের ক্রীড়া নৈপুণ্য দেখে তিনি মুগ্ধ হন। এরপর থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল দলের ভক্ত হয়ে যান তিনি। পরে ২০১৩ সালে দেশে ফিরে আসেন।
বর্তমান মিন্টু মিয়া নিজ গ্রামে তৈরি করেছেন, পিস কোরিয়া ক্যাফে নামে একটি রেষ্টুরেন্ট। ওই ক্যাফের কাপ, প্লেইট ও মগের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া দলের পতাকা দেখাযায়। দীর্ঘ সময় প্রবাস থেকে ফিরলেও দক্ষিণ কোরিয়া দলের প্রতি বিন্দুমাত্র ভালোবাসা কমেনি তার।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে রাজধানী ঢাকা বিমান বন্দর ওভার ব্রিজ এলাকায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা টানিয়ে ছিলেন তিনি। কিন্তু পূর্বের সেই পতাকা নিয়ে আত্মতুষ্টি হয়নি তার। তাই ২০২২ বিশ্বকাপের আসরের আগেই নিজের বাড়ি খাল্লা থেকে পাশের ইউনিয়ন তেজখালি পশ্চিমপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার দক্ষিণ কোরিয়া দলের পতাকা টানিয়ে ছিলেন। এবার আরেকটু বাড়িয়ে ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য পতাকা টানিয়েছেন তিনি। পতাকাটি খাল্লা বিষ্ণু রামপুর থেক বাহাদুর হয়ে খাল্লা পশ্চিম পাড়া সড়ক জুরে টানিয়েছেন।
আমিনুল ইসলাম নামে স্থানীয় প্রতিবেশি যুবক জানান, মিন্টু ভাই কোরিয়া থেকে আসার পর থেকেই ওই দেশটির প্রতি তার টান বেড়ে যায়। এরপর থেকে কোরিয়ার জন্য কিছু করার চেষ্টা করছিলেন তিনি। এর অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে তিনি মাটির ব্যাংকে টাকা জমানো শুরু করেন। এরপর তিনি পৈতৃকভাবে পাওয়া নিজের শখের আম বাগান বিক্রি করেন। ওই সময় পুরো এলাকায় প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কোরিয়ার পতাকা টানান। আমরা ২০২৬ আবারো দেখছি, তিনি আরো বড় করে বিশাল এলাকাজুরে তিনি পতাকা টানিয়েছেন। আমরাও তাকে উৎসাহ দিচ্ছি। আমরা চাই কোরিয়া এবারের বিশ্বকাপে ভালো ফলাফল করুক।