৩ বিশ্বকাপে সঠিক বলা জার্মান অর্থনীতিবিদের এবারের ভবিষ্যদ্বাণী কী?

২০১০ সালের বিশ্বকাপে সব ম্যাচের নিখুঁত পূর্বাভাস দিয়ে বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল ‘পল দ্য অক্টোপাস’। তবে এবার পলকেও ছাড়িয়ে গেছেন এক জার্মান অর্থনীতিবিদ, যার গাণিতিক মডেল ২০১৪ সাল থেকে আজ পর্যন্ত একটি বিশ্বকাপেরও ভুল পূর্বাভাস দেয়নি।

সেই ‘অপরাজেয়’ মডেলের জনক জোয়াকিম ক্লেমেন্টের দাবি - এবারের ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হতে যাচ্ছে নেদারল্যান্ডস। জুলাইয়ে যদি তারা বিশ্বকাপ ট্রফি জিততে পারে তবে এটি হবে ক্লেমেন্টের টানা চতুর্থ সফল ভবিষ্যদ্বাণী। 

বিবিসির এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। 

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত এই বিনিয়োগ ব্যাংক কৌশলবিদ এক দশক ধরে একটি জটিল অর্থনৈতিক ও পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেল দিয়ে বিশ্বকাপের গতিপথ নির্ধারণ করছেন। ২০১৪ সালে জার্মানি, ২০১৮ সালে ফ্রান্স এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের নিখুঁত আগাম বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।

ক্লেমেন্টের মডেল কেবল চ্যাম্পিয়ন দলই নয়, বরং ২০২৬ সালের ৪৮ দলের পুরো বিশ্বকাপের একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছে। তার হিসাব অনুযায়ী, দ্বিতীয় রাউন্ডেই বিশ্ব ফুটবলকে চমকে দিয়ে শক্তিশালী ব্রাজিলকে বিদায় করে দেবে জাপান এবং একই রাউন্ডে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাবে স্কটল্যান্ড।

অন্যদিকে প্রতিবারের মতো এবারও সেমিফাইনালে উঠবে ইংল্যান্ড। তবে ২০০৬ সালের ঠিক দুই দশক পর পর্তুগাল আবারও ইংলিশদের কাঁদিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করবে।

টানা তিনবার সফল হলেও জোয়াকিম ক্লেমেন্ট নিজেকে একজন ‘নিরাশাবাদী’ হিসেবে পরিচয় দেন। জুয়া খেলা বা অর্থ উপার্জন তার উদ্দেশ্য নয়। তিনি মূলত দেখাতে চেয়েছিলেন, নিখুঁত ফল পূর্বাভাস করার চেষ্টা করাটা কতটা অর্থহীন ও অযৌক্তিক।

ক্লেমেন্ট বলেন, “এটি শুরু হয়েছিল এমন এক অনুশীলন হিসেবে, যার মাধ্যমে দেখানো যায় যে অর্থনীতিবিদরা কতটা অহংকার নিয়ে এমন বিষয়ের পূর্বাভাস দেন, যেগুলো সম্পর্কে প্রকৃতপক্ষে তাঁদের কোনো ধারণাই নেই। কিন্তু টানা তিনবার মিলে যাওয়ায় মানুষ এখন এই মডেলকে অপরাজেয় মনে করছে এবং আমাকে গুরু ভাবা শুরু করেছে!”

ক্লেমেন্ট স্পষ্ট জানান, জনসংখ্যা, দেশের অর্থনীতি, জলবায়ু কিংবা ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের মতো কিছু কাঠামোগত উপাদানের ওপর ভিত্তি করে এই মডেল কাজ করে। তবে তা গল্পের কেবল অর্ধেকটা।

তার মতে, বাকি ৫০% হলো ভাগ্য। ম্যাচের দিন খেলোয়াড়দের ফর্ম, রেফারির সিদ্ধান্ত কিংবা বল পোস্টে লেগে ফিরে আসার মতো বিষয়গুলো আগে থেকে কোনো মডেল দিয়ে আঁচ করা সম্ভব নয়। যেমন, বর্তমান ডাচ মিডফিল্ডার জাভি সিমন্সের চোটের মতো অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলো মডেলে প্রভাব ফেলে।

বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ, সংকট আর নেতিবাচকতার ভিড়ে এই বিশ্বকাপ মডেলিংকে নিজের ক্লান্তি দূর করার মাধ্যম হিসেবে দেখেন ক্লেমেন্ট। তবে তার এই সফলতার কারণে তার অফিসের সহকর্মীরা ইতিমধ্যেই নেদারল্যান্ডসের ওপর বিপুল অর্থ বাজি ধরে বসে আছেন।

হাসতে হাসতে ক্লেমেন্ট বলেন, “যদি নেদারল্যান্ডস এবার বাদ পড়ে যায়, তবে সহকর্মীদের তোপের মুখে পরের দিন থেকে আমাকে অফিস বাদ দিয়ে বাসা থেকেই কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করতে হবে!”