হাইতিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু স্কটল্যান্ডের

বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে স্কটল্যান্ড। তবে মাঠের লড়াইয়ে যে তীব্রতার মুখোমুখি হতে হলো, তা হয়তো ভাবেনি ইউরোপীয় পরাশক্তিরা। র‍্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকা লড়াকু হাইতির বিপক্ষে আক্ষরিক অর্থেই ঘাম ঝরাতে হয়েছে স্কটিশদের। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক জন ম্যাকগিনের প্রথমার্ধের একমাত্র গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ১-০ ব্যবধানের এই কষ্টার্জিত জয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও, স্কটল্যান্ড স্পষ্ট বার্তা পেয়ে গেছে - বিশ্বকাপে কোনো দলই ‘সহজ প্রতিপক্ষ’ নয়।

এই জয়ের হাত ধরে দীর্ঘ ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে জয়ের স্বাদ পেল স্কটল্যান্ড।   

ম্যাচের শুরুটা ছিল পুরোপুরি স্কটল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে। হাইতির খেলোয়াড়দের মধ্যে কিছুটা স্নায়ুচাপ দেখা যাচ্ছিল এবং মনে হচ্ছিল স্কটরা সহজেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় চিত্র।

তরুণ উইঙ্গার বেন ডোক স্কটল্যান্ডের আক্রমণে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে ওঠেন। বোর্নমাউথের ২০ বছর বয়সী এই ফুটবলার যখনই বল পেয়েছেন, তখনই হাইতির রক্ষণে অস্বস্তি তৈরি করেছেন। ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগও তৈরি হয় তার উদ্যোগে। তবে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক প্লাসিদে দারুণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।

সেই আক্রমণের পর যেন জেগে ওঠে হাইতি। মাঝমাঠে জ্যাঁ-রিকনার বেলগার্দের নিরলস পরিশ্রমে তারা উঁচু জায়গা থেকে বল কেড়ে নেওয়া শুরু করে। বাঁ প্রান্তে প্রভিডেন্সের গতিময় খেলাও স্কটিশ রক্ষণকে বারবার সমস্যায় ফেলে।

যদিও সুযোগের সংখ্যা কম ছিল, তবু স্কটল্যান্ডের আক্রমণ ছিল বেশি ধারালো। ডোকের দারুণ এক দৌড়ের পর তার কাটব্যাক থেকে স্কট ম্যাকটমিনে প্রথমবারের শটে পোস্টে আঘাত করেন। গোল না এলেও হাইতির জন্য সেটি ছিল সতর্কবার্তা।

এর কিছুক্ষণ পর পানিবিরতির পর আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। আবারও ডান প্রান্ত দিয়ে দারুণ দৌড় দেন ডোক। তার ক্রস থেকে চে অ্যাডামসের প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন প্লাসিদে। কিন্তু ফিরতি বলে সবার আগে পৌঁছে যান জন ম্যাকগিন। ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক বদলানো তার শট জালে জড়িয়ে গেলে ২৮তম মিনিটে এগিয়ে যায় স্কটল্যান্ড।

এরপর দুই দলই আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করে। হাইতি কয়েকবার বিপজ্জনক অবস্থানে পৌঁছালেও স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানকে বড় কোনো পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রভিডেন্স বাম প্রান্তে প্রায় ইচ্ছেমতো খেলছিলেন। একের পর এক আক্রমণ গড়ে তুললেও তার ক্রসগুলো শেষ পর্যন্ত কোনো সতীর্থের কাছে পৌঁছায়নি।

ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে হাতছাড়া হচ্ছে বুঝতে পেরে রক্ষণ শক্ত করে ব্যবধান ধরে রাখার দিকে মনোযোগ দেয় এবং পাল্টা আক্রমণে সুযোগ খোঁজে স্কটল্যান্ড। এরমধ্যেই ম্যাচের সবচেয়ে বড় সুযোগগুলো পায় হাইতি। পিয়েরোর হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট না হলে স্কটল্যান্ডের জয় হাতছাড়া হতো।

এই জয়ে গ্রুপ ‘সি’-তে শীর্ষে উঠে এসেছে স্কটল্যান্ড। একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে ব্রাজিল ও মরক্কো ১-১ গোলে ড্র করায় তারা যথাক্রমে দুই ও তিন নম্বরে রয়েছে। হাইতি রয়েছে পয়েন্টশূন্য অবস্থায় তলানিতে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে কখনোই গ্রুপ পর্বের বাধা পার হতে না পারা স্কটল্যান্ডের জন্য এই জয়টি আত্মবিশ্বাস জোগানোর মতো সূচনা। তবে এই ম্যাচ আরও একটি বার্তা দিয়েছে, হাইতি গ্রুপের সবচেয়ে কম আলোচিত দল হলেও মরক্কো ও ব্রাজিলের জন্য তারা কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারে।