ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উন্মাদনার মাঝে মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি সমান তালে আলোচনা কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে ‘শক দ্য হক’ নামের একটি বাজপাখি। মানুষ না হলেও নিজের নিখুঁত দূরদর্শিতা দিয়ে সে এখন বিশ্ব ফুটবলের এক বিস্ময়কর ভবিষ্যদ্বক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বিশ্বকাপের বড় বড় হাইভোল্টেজ ম্যাচগুলোর রোমাঞ্চকর ফলাফল আগেভাগেই জানিয়ে বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলে দিয়েছে এই ‘ফেদার্ড ওরাকল’ বা পালকধারী ভবিষ্যদ্বক্তা।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচেই প্রথম বড় পরীক্ষায় বসেছিল ‘শক’। মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার সেই উদ্বোধনী ম্যাচের ফলাফল নিয়ে বাজপাখিটির করা প্রথম ভবিষ্যদ্বাণীটি একেবারে শতভাগ নিখুঁত প্রমাণিত হয়েছিল।
প্রথম ম্যাচের সাফল্যের পর শ’কের সামনে আসে দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। যেখানে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়েছিল গত ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট ও আফ্রিকান জায়ান্ট মরক্কো। শক্তি, সামর্থ্য ও বর্তমান ফর্মের বিচারে এই ম্যাচের ফল অনুমান করা ফুটবল পণ্ডিতদের জন্যই যেখানে কঠিন, সেখানে শ’কের সামনে রাখা হয়েছিল দুই দলের পতাকা।
ভবিষ্যদ্বাণী করার সময় দুই দেশের পতাকার কাছে গিয়ে শুরুতে মনে হচ্ছিল সে বুঝি চেনা শক্তির দেশ ব্রাজিলের দিকেই যাবে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে শেষ মুহূর্তে থমকে যায় শক। সে কোনো নির্দিষ্ট দেশের পতাকাকে স্পর্শ না করে কোনো দলকে বেছে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। বাজপাখিটির এই দ্বিধাই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে, মাঠের লড়াইয়ে এই দুই দলকে আলাদা করা সম্ভব নয় এবং ম্যাচটি ড্র হতে যাচ্ছে।
খেলার মাঠে ঠিক সেটাই ঘটেছে। দুই দলের মাঠের চরম উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই শেষে ব্রাজিল ও মরক্কো ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে। এর মাধ্যমে দুই ম্যাচের দুটিতেই সঠিক ফলাফল দিয়ে শ’কের দুর্দান্ত ভবিষ্যদ্বাণীর রেকর্ড অক্ষুণ্ণ থাকল।
টানা দুইবার বাজিমাত করার পর স্বাভাবিকভাবেই এই ‘ফেদার্ড ফোরকাস্টার’-এর ওপর চাপ এবং ফুটবল ভক্তদের প্রত্যাশা আরও বেড়ে গেছে। শ’কের পরবর্তী পরীক্ষা হতে যাচ্ছে মিশর বনাম বেলজিয়ামের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি। ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন, বাজপাখিটি কি পারবে টানা তৃতীয়বারও নিজের ভবিষ্যদ্বাণীকে সত্যি প্রমাণ করতে? উত্তর মিলবে মাঠের খেলা শেষেই।



