আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি বিশ্বজুড়ে আলোচিত এক নাম। ২০২২ বিশ্বকাপের মঞ্চে অনন্য এক কীর্তি গড়েছেন এই মহাতারকা। ২০২৬ ফুটবল মহাযজ্ঞে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের দাপুটে জয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক তুলে নিয়েছেন তিনি।
তবে ঐতিহাসিক এই জয় ছাপিয়ে এখন ফুটবল বিশ্বে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে মেসির একটি ‘বিতর্কিত’ ট্যাকল নিয়ে। বিশ্লেষকদের দাবি, নিশ্চিত লাল কার্ডের হাত থেকে পার পেয়ে গেছেন এই জাদুকর।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তীব্র বিতর্ক। দল তখন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।
ঠিক এমন সময় আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্ডিরকে পেছন থেকে একটি চ্যালেঞ্জ করেন মেসি, যেখানে তার বুটের স্টাড সরাসরি মান্ডির কাফের (পায়ের পেছনের পেশি) ওপর গিয়ে লাগে।
মান্দি কিছুক্ষণ মাঠে শুয়ে থাকলেও বড় কোনো ইনজুরিতে পড়েননি। রেফারি ফাউলের বাঁশি বাজালেও মেসিকে কোনো কার্ড দেখাননি। এমনকি মাঠের ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিও (ভিএআর) বিষয়টিকে ‘সিরিয়াস ফাউল’ হিসেবে বিবেচনা করে রেফারিকে লাল কার্ডের পরামর্শ দেয়নি।
মেসি কোনো কার্ড না পাওয়ায় ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ট্যাকলের ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়ে যায়।
একই অনুষ্ঠানে ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক ফুটবলার নেদুম ওনুওহা বলেছেন, “আমার মতে, ওটি সম্ভবত একটি লাল কার্ড হওয়া উচিত ছিল। যখন আলজেরিয়ার খেলোয়াড়টি মাঠে পড়ে গেলেন, তখন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল মেসি বেশ চিন্তিত। তিনি নিজেই বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি এমন কিছু করে ফেলেছেন যা তাঁকে বিপদে ফেলতে পারত।”
ম্যাচ শেষে ইএসপিএন বিশ্লেষক আলে মোরেনো সরাসরি রেফারির সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন। তার মতে, এটি কোনোভাবেই সাধারণ ফাউল ছিল না।মোরেনো বলেন, “এটি শতভাগ লাল কার্ড ছিল।”
এক সমর্থক ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, “এটি পরিষ্কার লাল কার্ড ছিল! অথচ ভিএআর চেকের পরও সে একটা হলুদ কার্ডও পেল না। হাস্যকর!”
আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “নামটা মেসি বলেই সে পার পেয়ে গেল। অন্য কোনো ফুটবলার এই ফাউল করলে নিশ্চিত মাঠের বাইরে যেতে হতো।”