বিশ্বকাপে কঙ্গোর চমক, হতাশার শুরু পর্তুগালের

বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই অপ্রত্যাশিত হোঁচট খেল পর্তুগাল। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে দ্রুত এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ইউরোপীয় দলটিকে।

ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটে জোয়াও নেভেসের গোলে লিড নেয় পর্তুগাল। বাঁ দিক থেকে পেদ্রো নেতোর নিখুঁত ক্রসে হেড করে দলকে এগিয়ে দেন তরুণ মিডফিল্ডার। শুরুটা দেখে মনে হচ্ছিল, র‌্যাঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকা কঙ্গোর জন্য কঠিন এক রাত অপেক্ষা করছে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা।

গোলের পর পর্তুগালের আক্রমণভাগের ধার অনেকটাই কমে যায়। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভাঙার মতো সৃজনশীলতা দেখাতে পারেনি রবার্তো মার্তিনেজের দল। এই সুযোগে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে ডিআর কঙ্গো। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ইওয়ান উইসার হেডে আসে সমতাসূচক গোল। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই ছিল ডিআর কঙ্গোর প্রথম গোল, যা তাদের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

বিরতির পর জয়সূচক গোলের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। তবে আক্রমণে গতি বাড়ালেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি তারা। দ্বিতীয়ার্ধে নেওয়া পাঁচটি শটের একটিও পোস্টের মধ্যে রাখতে পারেনি দলটি। অন্যদিকে ডিআর কঙ্গোও রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট নিশ্চিত করে।

ম্যাচজুড়ে সবচেয়ে আলোচনার বিষয় ছিলেন পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই তারকা ফুটবলারের জন্য এটি ছিল রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। তবে স্মরণীয় হওয়ার বদলে ম্যাচটি পরিণত হয়েছে হতাশার এক সন্ধ্যায়। পুরো ম্যাচে মাত্র ২৫ বার বল স্পর্শ করেছেন তিনি, যা বিশ্বকাপে অন্তত ৮০ মিনিট খেলা ম্যাচগুলোর মধ্যে তার সর্বনিম্ন। প্রতিপক্ষের বক্সে খুব কমই প্রভাব ফেলতে পেরেছেন, আর নেওয়া কয়েকটি প্রচেষ্টাও কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি।

বিশ্বকাপে পর্তুগালের প্রথম ম্যাচে গোলশূন্য থাকার ইতিহাসও দীর্ঘ হলো রোনালদোর। ২০০৬ সালে অ্যাঙ্গোলা, ২০১০ সালে আইভরি কোস্ট এবং ২০১৪ সালে জার্মানির বিপক্ষে গোল করতে পারেননি তিনি। ব্যতিক্রম ছিল ২০১৮ সালে স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক এবং ২০২২ সালে ঘানার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে করা গোল।

খেলা শেষে হতাশা লুকাননি রোনালদো। তিনি বলেন, “আমাদের সুযোগ ছিল ম্যাচটি জেতার। তবে এমন কিছু মুহূর্তও ছিল, যখন আমরা হারতেও পারতাম। এটাই ফুটবল। এখন আমাদের সামনে তাকাতে হবে এবং পরের ম্যাচে আরও ভালো খেলতে হবে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। তিনি লিখেছেন, “আমরা এমন শুরু চাইনি। কিন্তু টুর্নামেন্ট এখনও অনেক বাকি। আমাদের মনোবল ধরে রাখতে হবে এবং সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”

অন্যদিকে ডিআর কঙ্গোর জন্য এই ড্রয়ের মূল্য অনেক বেশি। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী পর্তুগালের কাছ থেকে পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়া নিঃসন্দেহে তাদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অর্জন। ম্যাচ শেষে কঙ্গোর খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের উচ্ছ্বাসই বলে দিচ্ছিল, এই ড্র তাদের কাছে জয়ের সমান।

বিশ্বকাপের শুরুতেই স্পেন, ব্রাজিল, বেলজিয়াম, উরুগুয়ের মতো বড় দলগুলো যেখানে প্রত্যাশিত ফল পায়নি, সেখানে সেই তালিকায় যুক্ত হলো পর্তুগালের নামও। এখন গ্রুপপর্বে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে রোনালদোদের সামনে।

অন্যদিকে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মধ্যে ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কানসাসে আর্জেন্টিনার হয়ে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে দলকে জেতানো মেসি যেখানে আলো ছড়িয়েছেন, সেখানে হিউস্টনে রোনালদো ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। তবে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে অভিজ্ঞ এই তারকার ফিরে আসার সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ করার সুযোগ নেই।

এখন দেখার বিষয়, পরের ম্যাচে পর্তুগাল ও রোনালদো কতটা জোরালোভাবে নিজেদের পুনরুদ্ধার করতে পারেন।