ফুটবলের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় কে - এই বিতর্কের যেন শেষ নেই। কারও কাছে শীর্ষে আছেন পেলে, কারও পছন্দ ডিয়েগো ম্যারাডোনা। বর্তমান সময়ে ফুটবলে এই আলোচনা মূলত ঘুরপাক খায় লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে।
বিশেষ করে ব্রাজিলে পেলের অবস্থান প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী। দেশটির সাবেক ও বর্তমান অধিকাংশ ফুটবলারই তাকে সর্বকালের সেরা হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে সেই প্রচলিত মতের বাইরে গিয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদো নাজারিও।
আর কোনো লুকোছাপা নয়, কানা-ঘুষা নয়, নয় কোনো তর্ক-বিতর্ক, লিওনেল মেসিই সর্বকালের সেরা! কথাটি আর কারো নয়, ‘দ্য ফেনোমেনন’ রোনালদো নাজারিওর। আর্জেন্টাইন জাদুকরের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি, বিশ্বকেও বললেন মেনে নিতে।
বয়সকে শুধু সংখ্যা বানিয়ে অদম্য ছুটে চলা এই মেসিকে দেখে রোনালদোর মুগ্ধতা যেন ছাপিয়ে গেল সবকিছু। ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ী এই স্ট্রাইকার মেসির সর্বকালের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে একটু-আধটু উস্কে ওঠা বিতর্কের ইতি টেনে দিলেন।
তিনি বলেন,“রেকর্ড গড়াই হয় ভাঙার জন্য এবং যে মানুষ এটি ভাঙল, তা বিশ্বের কোনো ফুটবল সমর্থককেই বিস্মিত করেনি। আর্জেন্টিনা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন, (এবারের আসরেও ফেভারিট)।”
“যখনই মেসি মাঠে নামে, তখনই সবকিছু ঐতিহাসিক এবং দৃষ্টিনন্দন হয়ে ওঠে। বিশ্বের এখন সব লুকোছাপা বন্ধ করে মেনে নেওয়া উচিত, সে-ই সর্বকালের সেরা।”
বিশ্বকাপে বুধবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে একাই হ্যাটট্রিক করেন মেসি। তার তিন গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬-তে, যা যৌথভাবে আসরের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। এই পথে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলার ও ব্রাজিলিয়ান তারকা রোনালদো নাজারিওকে।
তবে ব্যক্তিগত অর্জন নিয়ে খুব বেশি উচ্ছ্বসিত নন মেসি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “ক্লোসা ও রোনালদোর মতো খেলোয়াড়দের পাশে থাকা অবশ্যই সম্মানের। এমন তালিকায় থাকলে ভালো লাগে। এমবাপ্পেও সেখানে আছে, ও আজ দুটি গোল করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এগুলো শুধু পরিসংখ্যান, এর বেশি কিছু নয়।”