জন্মদিন সবারই আসে। কিন্তু কিছু মানুষ আছেন, যাদের জন্মদিন শুধু ব্যক্তিগত থাকে না, পুরো বিশ্ব যেন সেটাকে নিজের মতো করে উদযাপন করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে ওঠে স্মৃতি, ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায়। লিওনেল মেসি সেই বিরল সৌভাগ্যবানদের একজন।
২৪ জুন, ৩৯ বছরে পা দিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। বয়স যত বাড়ছে, তার খেলা যেন ততই হয়ে উঠেছে আরো পরিণত, আরো উপভোগ্য। সময় তাকে আরো নিখুঁত করে তুলেছে সে তো বলাই বাহুল্য।
আজ থেকে বিশ বছর আগে জার্মানির বিশ্বকাপে কিশোর মেসি প্রথমবার গোল করে বিশ্বকে নিজের নাম জানান দেন। তখন আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা। আজ দুই দশক পরে এসে, সেই ছেলেটাই ফুটবল বিশ্বের জীবন্ত এক কিংবদন্তী!
তবে রোজারিওর সেই ছোট্ট মেসির পথটা সহজ ছিল না। শারীরিক সমস্যার কারণে অনেক কিছুই থেমে যেতে পারতো। কিন্তু না, থেমে থাকার পাত্রই নন মেসি, তাই তো আজ ইতিহাসের একদম শীর্ষে পোঁছে গেছেন।
দুই দশকের ক্যারিয়ারে মেসির ঝুলিতে আছে, ৮টি ব্যালন ডি’অর, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়, কোপা আমেরিকার শিরোপা, বার্সেলোনার হয়ে ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, আর ক্লাব ও দেশের হয়ে ৮০০-এর বেশি অফিসিয়াল গোলের সম্মান।
তার প্রতিটি অর্জন যেন একেকটা ইতিহাস!
অনেকেই তো ধরেই নিয়েছিলো, ২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পর হয়তো তার গল্পটা শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু লিওনেল মেসি তো, সেই মানুষ, যিনি ৩৯ বছর বয়সেও নতুন করে শুরু করার ক্ষমতা রাখেন। এই কারণেই তাকে ঘিরে উন্মাদনা কমে না। বরং প্রতিটি মুহূর্তেই যেন তিনি বুঝিয়ে দেন, তার তুলনা কেবল তিনিই। এখনো পুরো আর্জেন্টিনা দল কঠিন মুহূর্তে তার দিকেই তাকায়, খুঁজে পায় ভরসা।
ফুটবল হয়তো মেসিকে অনেক কিছু দিয়েছে, কিন্তু ফুটবলকে তিনি যা দিয়েছেন, সেই হিসাব কখনোই মেলানো সম্ভব নয় বলেই মনে করেন ফুটবলবোদ্ধারা।