গ্রুপসেরা হয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। শেষ বত্রিশে তাদের প্রতিপক্ষ এবারের আসরের চমক কেপ ভার্দে। তবে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য দুঃসংবাদ! কারণ, নকআউটের আগে বারবার ঘুরে ফিরে আলোচনায় আসছে পুরোনো এক পরিসংখ্যান।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে মোট তিনবার গ্রুপপর্বে সব ম্যাচ জিতে নকআউটে উঠলেও কোনোবারই শিরোপা জিততে পারেনি আর্জেন্টিনা।
পরিসংখ্যান বলছে, ফ্রান্স, মেক্সিকো ও চিলিকে হারিয়ে ১৯৩০ বিশ্বকাপে ফাইনালে পৌঁছেছিল আর্জেন্টিনা। তবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে উরুগুয়ের কাছে ৪-২ গোলের ব্যবধানে হেরে রানার্সআপ হয় তারা।
এরপর আসা যাক, ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে। সেবারও গ্রুপপর্ব জাপান, জ্যামাইকা ও ক্রোয়েশিয়াকে হারায় আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ডকেও হারায়। তবে, কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়ে নেদারল্যান্ডসের কাছে ২-১ গোলে থেমে যায় তাদের যাত্রা।
২০১০ বিশ্বকাপেও একই চিত্র। নাইজেরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও গ্রিসকে হারিয়ে দুর্দান্তভাবে নকআউটে স্থান দখল করে নেয়, কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়ে জার্মানির লজ্জার হারের স্বাদ পেতে হয়। ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপকে বিদায় জানায় তারা।
গ্রুপপর্বে সব ম্যাচ জিতে ফাইনালে পৌঁছায় ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জার্মানির কাছে হেরে লিওনেল মেসির দলের শিরোপা হাতছাড়া হয়।
সবশেষ ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ৩৬ বছরের খরা কাটিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছিল আর্জেন্টিনা দল! সেবার কিন্তু গ্রুপপর্বেই সৌদি আরবের কাছে হেরে গিয়েছিল মেসিরা!
তাই এবার গ্রুপপর্বে দাপট দেখিয়ে শেষ ৩২-এ পৌঁছালেও এখনই অতিরিক্ত উচ্ছ্বাসের কিছু নেই বলে মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা। সামনে কেপ ভার্দে পরীক্ষায় উতরে গিয়ে আর্জেন্টিনা কি পারবে অতীতের এই পরিসংখ্যান ভেঙে বিশ্বকাপ জয়ের পথে এগিয়ে যেতে-এটাই এখন বড় প্রশ্ন।