Sunday, June 28, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আলজেরিয়াকে নিয়ে নকআউটে অস্ট্রিয়া, বাদ পড়লো ইরান

ক্যানসাস সিটিতে বিশ্বকাপের ‘জে’ গ্রুপে ৩-৩ গোলে ড্র হয় আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার ম্যাচ

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৬, ১১:৫৮ এএম

রোমাঞ্চের চূড়ান্ত রূপ ফুটে উঠলো যেন গ্রুপ পর্বের শেষ দিনটির শেষ সময়ে। দুই দলের লড়াইয়ে মিশে ছিল তিন দলের সম্ভাবনা। যোগ করা সময়ে রিয়াদ মাহরেজ গোল করে যখন আলজেরিয়াকে এগিয়ে নিলেন, তখন সম্ভবত নেচে উঠেছিল ইরানও।

এই অবস্থায় ম্যাচ শেষ হলে আলজেরিয়ার সঙ্গে ইরানের নকআউট নিশ্চিত হতো। কিন্তু কিছুক্ষণ পর খেলা নিলো নাটকীয় রূপ। পাশার দান উল্টে দিলেন সাশা কালাইজিচ। অস্ট্রিয়াকে নকআউটে নিয়ে গেলেন তিনি। এই ম্যাচে না থেকেও হতাশায় ডুবল ইরান।  

ক্যানসাস সিটিতে বিশ্বকাপের ‘জে’ গ্রুপে ৩-৩ গোলে ড্র হয় আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার ম্যাচ।

সমীকরণ যা দাঁড়িয়েছিল তাতে আলজেরিয়া বা অস্ট্রিয়া জিতলে নকআউটে উঠে যেত ইরান। উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচটিতে এক সময় মনে হচ্ছিল ইরানকে হতাশায় ডুবিয়ে হতে যাচ্ছে ড্র। কিন্তু যোগ করা সময়ে মাহরেজের গোলে ইরানের এক পা পড়েছিল নকআউটে। কিন্তু কে জানত নাটকের তখনও বাকি। আর সেই নাটকের নায়ক সাশা। 

ম্যাচের ২৮ মিনিটে মার্কো আরনাউতোভিচের গোলে এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়া। প্রথামার্ধের শেষ দিকে আলজেরিয়াকে সমতায় ফেরান রফিক বেলঘালি। বিরতির পর ৫৫ মিনিটে মার্সেল জাবিৎসারের গোলে ফের এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়া। মিনিট পাঁচেক পর সমতা টানেন রিয়াদ মাহরেজ।

এই ম্যাচ ড্র হওয়ায় আর্জেন্টিনার পেছনে থেকে ‘জে’ গ্রুপ থেকে নকআউট নিশ্চিত করল অস্ট্রিয়া। সেরা তৃতীয় অবস্থান পাওয়া আট দলের সর্বশেষটি হলো আলজেরিয়া।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের ১০৬তম ম্যাচ খেলতে নামা ৩৭ বছর বয়সী মার্কো আর্নাতোভিচ ১১ মিনিটেই হলুদ কার্ড দেখে বসেন। তবে সেই ধাক্কা সামলে ২৮ মিনিটে ডেভিড আলাবার রক্ষণভাগ থেকে বাড়ানো চমৎকার লং বল ধরে অস্ট্রিয়াকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এই অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার। এটি ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে তার ৪৯তম গোল।

পিছিয়ে পড়ে গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে আলজেরিয়া। ৪০ মিনিটে ফারিস শাইবির একটি জোরালো শট অস্ট্রিয়ার পোস্টে লেগে ফিরে আসলে দুর্ভাগ্যবশত গোলবঞ্চিত হয় তারা। তবে প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে একক নৈপুণ্যে আলজেরিয়াকে সমতায় ফেরান রাফিক বেলঘালি। ডান প্রান্ত দিয়ে অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগ ভেঙে ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে জোরালো শটে বল জালে জড়ান তিনি। ফলে ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় দুই দলই। ৫৫ মিনিটে কনরাড লাইমারের পাস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে অস্ট্রিয়াকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন সাবিৎজার। তবে অস্ট্রিয়ার এই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি রিয়াদ মাহরেজ। ৬০ মিনিটে হুসেম আউয়ারের দুর্দান্ত অ্যাসিস্ট থেকে গোল করে আলজেরিয়াকে আবারও সমতায় ফেরান তিনি। এটি ছিল মাহরেজের ৩৯তম আন্তর্জাতিক গোল। 

৯০ মিনিটের পর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে হুসেম আউয়ারের চমৎকার পাসে বক্সে বল পেয়ে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে আলজেরিয়াকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন মাহরেজ।

কিন্তু গল্প তখনো শেষ হয়নি। অস্ট্রিয়ার শেষ আক্রমণ। বদলি হিসেবে নামে সাশা কালাইজিচ। মাত্র কয়েক সেকেন্ড মাঠে। একটা হেড, বল জালে। ৩-৩। ম্যাচের ঘড়িতে তখন ৯৬ মিনিট। 

দুই দলই মেগা সমীকরণ মিলিয়ে একসঙ্গে পা রেখেছে বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অব ৩২’ বা নকআউট পর্বে। তবে দুই দলের এই ড্রয়ের রাতে চরম ট্র্যাজেডির শিকার হয়ে  বিশ্বকাপ থেকেবিদায় নিতে হলো ইরানকে।

   

About

Popular Links

x