ফিফার অনিয়ম নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য

চলতি বিশ্বকাপে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের নানা বৈষম্যমূলক আচরণের পর এবার ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার ওপর ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন ইরানের অধিনায়ক মেহদি তারেমি। টুর্নামেন্টে নিজেদের ভাগ্য সুতোয় ঝুলে যাওয়ার পর কোনো রকম রাখঢাক না রেখেই এই বিশ্বকাপকে একটি ‘চূড়ান্ত বিপর্যয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ফিফা ইরানের সাথে সরাসরি অবিচার করেছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন এই তারকা স্ট্রাইকার।

গ্রুপ পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মিশরের সাথে জিতলেই শেষ বত্রিশ নিশ্চিত হতো ইরানের। কিন্তু ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর (VAR) এর হস্তক্ষেপে ইরানের একটি গোল বাতিল হলে ১–১ ব্যবধানের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। এই ড্রয়ের রাতে শেষ মুহূর্তে ক্যানসাস সিটিতে রোমাঞ্চের চূড়ান্ত রূপ ফুটে ওঠে গ্রুপ পর্বের শেষ দিনটিতে, যার চরম ট্র্যাজেডির শিকার হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো ইরানকে।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তারেমি বলেন, টুর্নামেন্ট হিসেবে এই বিশ্বকাপ একটি চূড়ান্ত বিপর্যয়। সব সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব ছিল ফিফার, কিন্তু শুরু থেকেই তারা সেটি করতে ব্যর্থ হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের সাথে প্রথম ম্যাচের পর ফিফা প্রেসিডেন্ট আমাদের ড্রেসিংরুমে এসে বলেছিলেন যে মাত্র তো বিশ্বকাপ শুরু হলো, কিন্তু এখন তো গ্রুপ পর্বই শেষ হয়ে গেলো।

চলতি বিশ্বকাপে শুরু থেকেই চরম লজিস্টিক ও রাজনৈতিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে ইরান দলকে। বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র ১০ দিন আগে তাদের ভিসা দেওয়া হয়, যার মধ্যে দলের গুরুত্বপূর্ণ কোচিং ও সাপোর্ট স্টাফের অনেকেই ভিসা পাননি। বাধ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনা থেকে নিজেদের বেসক্যাম্প সরিয়ে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় নিতে হয় ইরানকে। এরপর দলটির ওপর জারি করা হয় কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। ফলে ম্যাচের মাত্র এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই আবার মেক্সিকোতে ফেরত যেতে বাধ্য হয় তারা, যা খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও শারীরিক অবস্থায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ফিফার এমন উদাসীনতা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না ইরানি অধিনায়ক। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে মানুষগুলো আমাদের লজিস্টিকস সহায়তা দেয়, তাদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাই দেওয়া হয়নি। প্রতিবার তিজুয়ানা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ম্যাচ খেলা কীভাবে সম্ভব? আমরা মেক্সিকো ও তিজুয়ানার মানুষকে ভালোবাসি, কিন্তু একটা পেশাদার টুর্নামেন্টে পেশাদার খেলোয়াড়দের সাথে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সরাসরি ফিফার নিয়ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারেমি আরও বলেন, আমাদের সাথে যা হয়েছে তা কোনোভাবেই ন্যায্য নয়। ফিফার কাছে কি এটা ন্যায়সঙ্গত মনে হচ্ছে? তারা যদি চায় আমরা টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে যাই, তাহলে ঠিক আছে, আমরা বিদায়ই নিয়ে নিচ্ছি। আমরা প্রতিবার এসব নিয়ে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি, কিন্তু আমাদের সাহায্যে কেউ এগিয়ে আসেনি।

মিশরের বিপক্ষে ড্রয়ের পর ইরানের বিশ্বকাপ ভাগ্য আর নিজেদের হাতে ছিল না। গ্রুপ ‘জে’ এর শেষ ম্যাচে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার লড়াইয়ে মিশে ছিল ইরানের সম্ভাবনাও। ক্যানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে যোগ করা সময়ে রিয়াদ মাহরেজ গোল করে যখন আলজেরিয়াকে এগিয়ে নিলেন, তখন নকআউটের স্বপ্ন দেখে সম্ভবত নেচে উঠেছিল ইরানও। এই অবস্থায় ম্যাচ শেষ হলে আলজেরিয়ার সঙ্গে ইরানের নকআউট নিশ্চিত হতো।

কিন্তু কিছুক্ষণ পরই খেলা নেয় নাটকীয় রূপ। পাশার দান উল্টে দিয়ে গোল করেন সাশা কালাইজিচ। ফলে ৩–৩ গোলের সমতায় শেষ হয় আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার ম্যাচটি। এই মেগা সমীকরণ মিলিয়ে দুই দলই একসঙ্গে পা রেখেছে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ বা নকআউট পর্বে। আর এই ম্যাচে মাঠে না থেকেও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় হতাশায় ডুবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল ইরানের।