বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের প্রথম বড় চমকটি উপহার দিল প্যারাগুয়ে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। বোস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে স্কোরলাইন ছিল ১-১।
খেলার নিয়ন্ত্রণ শুরু থেকেই ছিল জার্মানদের হাতে। বলের দখলে স্পষ্ট আধিপত্য থাকলেও আক্রমণগুলো শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়ে ওঠেনি। সেই সুযোগেই প্রথমার্ধের শেষ দিকে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। ৪২তম মিনিটে মাতিয়াস গালারজার ক্রস থেকে হেডে গোল করেন হুলিও এনসিসো।
বিরতির পর জার্মানি দ্রুত ম্যাচে ফেরে। ৫৪তম মিনিটে কাই হাভার্টজের হেডে সমতা ফিরে আসে। এরপর জয়ের লক্ষ্যে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ইউলিয়ান নাগেলসমানের দল। কিন্তু প্রতিবারই তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্দো গিল এবং সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ।
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে একবার জালের দেখা পেয়েছিল জার্মানি। কর্নার থেকে জনাথন টাহর হেড জালে জড়ালেও ভিএআরের পর সেটি বাতিল করেন রেফারি। কারণ, গোল হওয়ার আগে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষককে ফাউল করেছিলেন ভালডেমার আন্টন। ফলে ম্যাচের নিষ্পত্তি গড়ায় টাইব্রেকারে।
স্পট কিকের লড়াইয়ে শুরু থেকেই এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। প্রথম শটেই কাই হাভার্টজের প্রচেষ্টা রুখে দেন গিল। পরে ইয়োশুয়া কিমিখ ও জামাল মুসিয়ালা গোল করলেও চতুর্থ শটে নিক ভোল্টেমাডের শটও ফিরিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক। তবে প্যারাগুয়েও সুযোগ নষ্ট করে। আন্তোনিও সানাব্রিয়া নির্ধারিত পাঁচ শটের চতুর্থটিতে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন এবং পঞ্চম শটে ফাবিয়ান বালবুয়েনার প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন ম্যানুয়েল নয়্যার। ফলে পাঁচ শট শেষে দুই দলের স্কোর দাঁড়ায় ৩-৩।
সাডেন ডেথে ভাগ্য আর জার্মানির পক্ষে থাকেনি। জনাথন টাহ বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দিলে ম্যাচ জয়ের সুযোগ পেয়ে যায় প্যারাগুয়ে। সেই দায়িত্ব নিখুঁতভাবে পালন করেন হোসে কানালে। নয়্যারকে পরাস্ত করে দলকে এনে দেন ঐতিহাসিক জয়।
টাইব্রেকারে দুটি সেভ করার পাশাপাশি পুরো ম্যাচে আরও ছয়বার জার্মানদের নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন অরলান্দো গিল। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেই বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে জার্মানির অপরাজিত থাকার রেকর্ডের ইতি ঘটে। এর আগে চারটি টাইব্রেকারের প্রতিটিতেই জয় পেয়েছিল ইউরোপের দলটি।
২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০১৮ ও ২০২২ সালে গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি জার্মানি। এবার নকআউটে উঠলেও প্রথম পরীক্ষাতেই বিদায় নিতে হলো তাদের। অন্যদিকে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে নতুন ইতিহাস গড়ল প্যারাগুয়ে। পরের পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স ও সুইডেন ম্যাচের বিজয়ী দল।