তারকাদের প্রতি অতিরিক্ত ভক্তি মানসিক ব্যাধির লক্ষণ

প্রিয় অভিনেতা, গায়ক বা ক্রীড়াতারকার প্রতি ভক্তি স্বাভাবিক হলেও, সেই অনুভূতি যখন বাস্তবতার সীমা অতিক্রম করে ভ্রান্ত বিশ্বাসে রূপ নেয়, তখন তা মানসিক ব্যাধির লক্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু মানুষ এমন বিশ্বাসে আক্রান্ত হন যে কোনো জনপ্রিয় তারকা গোপনে তাদের ভালোবাসেন বা তাদের উদ্দেশ্যেই কাজ করছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে ইরোটোম্যানিয়া বা ডিলিউশন অব লাভ বলা হয়, যা একটি বিরল কিন্তু জটিল মানসিক রোগ।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো বাস্তব প্রমাণ ছাড়াই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে উচ্চ সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন কোনো ব্যক্তি, যেমন অভিনেতা, গায়ক বা জনপরিচিত ব্যক্তিত্ব, তার প্রেমে পড়েছেন। বাস্তবে তাদের মধ্যে যোগাযোগ না থাকলেও রোগী মনে করেন, টেলিভিশন অনুষ্ঠান, সাক্ষাৎকার, পোশাক বা আচরণের মাধ্যমে ওই তারকা তাকে গোপনে ভালোবাসার বার্তা দিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, এ ধরনের ভ্রান্ত বিশ্বাসের কারণে আক্রান্ত ব্যক্তি কখনো সংশ্লিষ্ট তারকার কর্মস্থলে গিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করতে পারেন, পরিবারের সদস্যদের বিরক্ত করতে পারেন কিংবা ফোন, চিঠি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানিমূলক আচরণও করতে পারেন।

তবে চিকিৎসকদের মতে, সব ধরনের তারকাপ্রীতি মানসিক রোগ নয়। বিশেষ করে কৈশোরে কোনো গায়ক, অভিনেতা বা খেলোয়াড়কে আদর্শ মানা, তার ছবি সংগ্রহ করা, গান শোনা বা তাকে নিয়ে কল্পনা করা স্বাভাবিক মানসিক বিকাশের অংশ হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই আবেগ কমে যায়।

তবে যদি কোনো ব্যক্তি বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে কোনো তারকা তার প্রেমে পড়েছেন, কিংবা সেই বিশ্বাসের কারণে নিজের বা অন্যের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ইরোটোম্যানিয়ার মূল কারণ ব্যক্তির ইচ্ছাশক্তি নয়; বরং মস্তিষ্কের স্নায়ুরাসায়নিক পরিবর্তন ও জৈবিক কারণ এর জন্য দায়ী। ফলে কাউন্সেলিংয়ের চেয়ে ওষুধভিত্তিক চিকিৎসাই এ ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর। কারণ রোগীরা সাধারণত নিজেদের বিশ্বাসকে ভুল মনে করেন না এবং চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তাও উপলব্ধি করেন না।

অভিভাবকদের প্রতি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কিশোর-কিশোরীদের তারকাদের প্রতি স্বাভাবিক আকর্ষণ নিয়ে অযথা বকাঝকা বা উপহাস না করে ধৈর্য ধরতে হবে। তবে যদি সেই আকর্ষণ বাস্তবতা-বিবর্জিত বিশ্বাস, আত্মক্ষতি, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বা অস্বাভাবিক আচরণে রূপ নেয়, তাহলে দ্রুত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাভাবিক ভক্তি ও মানসিক ব্যাধির পার্থক্য বোঝা জরুরি। কারণ সময়মতো চিকিৎসা শুরু হলে ইরোটোম্যানিয়াসহ এ ধরনের মানসিক সমস্যার সফল চিকিৎসা সম্ভব।