যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখেছেন ৬ কোটিরও বেশি দর্শক

এবারের ফিফা বিশ্বকাপ তিনটি স্বাগতিক দেশ, ১৬টি স্টেডিয়াম, ৪৮টি দল, ১০৪টি ম্যাচ এবং মাঠের ভেতরে ও বাইরে অসংখ্য বিতর্কের সম্ভাবনা- সব মিলিয়ে এটি ছিল অত্যন্ত জটিল একটি আয়োজন। 

তবে শেষ পর্যন্ত ফিরে তাকালে দেখা যায়, অনেক কিছুই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ফাইনালে স্পেনের ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারানোর ম্যাচে রেকর্ডসংখ্যক দর্শকের টেলিভিশনে খেলা দেখা। এ ম্যাচটি দেশটিতে দেখেছেন প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ দর্শক, যা যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। 

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরের আয়োজন করেছে। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে অধিকাংশ আলোচনাই মাঠের খেলাকে ঘিরেই ছিল।

নিলসেন মিডিয়া রিসার্চ-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দর্শক দেখা ফুটবল ম্যাচের নতুন রেকর্ড গড়েছে।

অন্যদিকে, স্প্যানিশ ভাষার সম্প্রচারকারী টেলেমুন্দোর প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, তাদের সম্প্রচারে ম্যাচটি দেখেছেন ২ কোটি ২৬ লাখ দর্শক। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে দুই ভাষার সম্প্রচার মিলিয়ে ফাইনাল ম্যাচটি ৬ কোটিরও বেশি মানুষ উপভোগ করেছেন।

আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং নরওয়ের আর্লিং হালান্ডের মতো তারকারা উত্তর আমেরিকার ঘরে ঘরে পরিচিত মুখে পরিণত হন। যুক্তরাষ্ট্র টুর্নামেন্ট থেকে শেষ ষোলোতে বিদায় নেওয়ার পরও দেশটিতে টেলিভিশন দর্শকসংখ্যা উচ্চ পর্যায়েই ছিল। আর টিকিটের দাম বেশি হলেও অধিকাংশ ম্যাচই ছিল দর্শকে পরিপূর্ণ।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো স্বাগতিক তিন দেশের প্রশংসা করেছেন।

ফক্স তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ইংরেজি ভাষায় টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচ সম্প্রচার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বেলজিয়ামের কাছে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার পরও দর্শকদের আগ্রহ কমে নি।

এদিকে স্প্যানিশ ভাষার সম্প্রচার টেলেমুন্দোও ছিল ব্যাপক জনপ্রিয়। এমনকি যাদের মাতৃভাষা স্প্যানিশ নয়, তাদের মধ্যেও এই সম্প্রচার ছিল সমাদৃত।

মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্সের ইংরেজি ভাষার সম্প্রচার দেখেছেন ৩ কোটি ৮৯ লাখ দর্শক। অন্যদিকে টেলেমুন্ডো এবং তাদের স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম পিককে স্প্যানিশ ভাষার সম্প্রচার দেখেছেন আরও ২ কোটি ৩৯ লাখ মানুষ। সব মিলিয়ে দর্শকসংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ, যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালের ২ কোটি ২৩ লাখ মার্কিন দর্শকের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। 

ফক্স জানিয়েছে, তাদের ফক্স, এফএস১ এবং টুবি প্ল্যাটফর্মে ১০৪টি ম্যাচে গড়ে ৭৭ লাখ ৩৭ হাজার দর্শক ছিল। ২০২২ বিশ্বকাপে এই গড় ছিল ৩৫ লাখ ৮৮ হাজার, আর ২০১৮ সালে ছিল ২৭ লাখ ৭০ হাজার।

যদিও নিলসেনের দর্শকসংখ্যা বিশ্বকাপ ফাইনালের জনপ্রিয়তার একটি ধারণা দেয়, তবু প্রকৃত দর্শকসংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। কারণ, অনেকেই বিভিন্ন ওয়াচ পার্টি বা দলবদ্ধভাবে খেলা দেখেছেন। আরও নির্ভুল হিসাব পেতে ২০২৫ সালে নিলসেন তাদের ঘরের বাইরের দর্শক পরিমাপের পদ্ধতিও সম্প্রসারণ করে।

শুরুর দিকে কিছু সমস্যা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর স্টেডিয়ামগুলোতে পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই দর্শক উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।

ইনফান্তিনো বলেন, “স্টেডিয়ামগুলোতে আমরা রেকর্ডসংখ্যক দর্শক পেয়েছি, প্রায় ৭০ লাখ। আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে, তবে সম্ভবত বিশ্বের ৬০০ কোটিরও বেশি মানুষ ঘরে বসে এই টুর্নামেন্ট দেখেছেন।”

টুর্নামেন্টে নতুন সংযোজিত হাইড্রেশন ব্রেক-এ অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন দেখানোর সুযোগও সম্প্রচারকারীদের বাড়তি আয় এনে দিয়েছে। হলিউড রিপোর্টারের তথ্য অনুযায়ী, শুধু এই বিরতির বিজ্ঞাপন থেকেই ফক্সের আয় হতে পারে অন্তত ২৫ কোটি ডলার।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এবারের রেকর্ড দর্শকসংখ্যা এবং বাণিজ্যিক সাফল্য ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া বাজারে ফুটবলের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।