অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারলেন না বাংলাদেশের ব্যাটাররা। মিচেল স্টার্কের গতি ও সুইংয়ে একের পর এক উইকেট হারিয়ে ৩৯ রানেই ৯ ব্যাটারকে হারিয়েছিল সফরকারীরা। তখন শঙ্কা জেগেছিল টেস্টে নিজেদের সর্বনিম্ন ৪৩ রানের রেকর্ডও ভেঙে যাবে কি না। শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামের প্রতিরোধে সেই লজ্জা এড়ালেও ৬৪ রানেই থেমেছে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩৪ ওভারে অলআউট হয় বাংলাদেশ। দলের সর্বোচ্চ রান এসেছে ১১ নম্বরে নামা শরিফুলের ব্যাট থেকে-১৪। তাইজুল ১১ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ উইকেটে তাদের ২৫ রানের জুটিই বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটি।
দিনের শুরু থেকেই বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ধস নামান স্টার্ক। মাত্র ১২ রানের মধ্যেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা, আর প্রথম পাঁচটি উইকেটই নেন অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি পেসার। সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। প্রথম পাঁচ ব্যাটারের চারজনই ফেরেন কোনো রান না করেই।
সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মধ্যে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন মুশফিকুর রহিম। তবে ৪২ বল খেলে মাত্র ৫ রান করে প্যাট কামিন্সের বলে ফিরে যান তিনি। প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৩৫ রান। তখন ১১ রানে অপরাজিত ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
মধ্যাহ্ন বিরতির পর বাংলাদেশের শেষ ভরসা মিরাজও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। কামিন্সের অফস্টাম্পের বাইরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে তৃতীয় স্লিপে বিউ ওয়েবস্টারের হাতে ধরা পড়েন তিনি। আগের ১১ রানের সঙ্গে আর কোনো রান যোগ করতে পারেননি।
এরপর হাসান মাহমুদ ১০ রান করে জশ হ্যাজলউডের শর্ট বলে লেগ স্লিপে নাথান লায়নের হাতে ক্যাচ দেন। দ্রুত উইকেট হারাতে হারাতে বাংলাদেশের স্কোর তখন ৯ উইকেটে ৩৯।
সেখান থেকেই লড়াই শুরু করেন তাইজুল ও শরিফুল। টেস্টে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন ৪৩ রানের স্কোর পেরিয়ে দলকে ৬৪ পর্যন্ত নিয়ে যান দুই বোলার। স্টার্কের বলে শরিফুল উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারির হাতে ধরা পড়লে শেষ হয় ২৫ রানের জুটি এবং বাংলাদেশের ইনিংস। ১৪ রান করে শরিফুলই থাকেন দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় নায়ক স্টার্ক। ১০ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন তিনি, যার মধ্যে ৬ ওভারই ছিল মেডেন। অধিনায়ক কামিন্স ২৫ রানে নেন ৩ উইকেট। অন্য উইকেটটি যায় হ্যাজলউডের ঝুলিতে।
৬৪ রান টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। বাংলাদেশের সর্বনিম্ন ৪৩ রান, ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এরপর ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫৩ এবং ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬২ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ।