আগামী অক্টোবরে ঢাকায় বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে সম্ভাব্য প্রীতি ম্যাচ নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা তুঙ্গে থাকলেও সেই আশায় অনেকটাই ভাটা পড়েছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, এই হাইভোল্টেজ প্রীতি ম্যাচটি আয়োজনের বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করার মতো পরিস্থিতিতে বর্তমানে সরকার নেই।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকায় একটি বক্সিং কোচিং কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমন্ত্রী সরাসরি সরকারের অর্থায়নের অপারগতার কথা নিশ্চিত করেন।
আমিনুল হক বলেন, "এককথায় উত্তর দিলে, এই মুহূর্তে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে এই ম্যাচের পেছনে টাকা খরচ করতে পারব না। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে অনেক বেশি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। ফলে কেবল একটি প্রীতি ম্যাচ উপলক্ষে বিপুল অর্থ খরচ করার যৌক্তিকতা বা মানসিকতা সরকারের নেই।"
তবে সরকার ম্যাচটি বাতিল করছে না বলে ইঙ্গিত দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) যদি বেসরকারি স্পন্সর বা বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই বিপুল ব্যয়ের বন্দোবস্ত করতে পারে, তবে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
ব্রাজিল দলের ঢাকা সফর প্রসঙ্গে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে প্রাথমিক কথা হয়েছে জানিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বিষয়টি একদম প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। বাফুফে সভাপতির সঙ্গে আমি কথা বলেছি, তবে ব্যয়ের বণ্টন ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয় নিয়ে এখনো খোলামেলা আলোচনা হয়নি। বাফুফে যদি নিজস্ব উদ্যোগে স্পন্সর এনে এটি আয়োজন করতে পারে, তবে আমরা লজিস্টিকসহ সব ধরনের সহযোগিতা বজায় রাখব।"
উল্লেখ্য, রবিবার (২৩ আগস্ট) ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) একটি প্রতিনিধিদল ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করে। তারা খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফসহ মোট ৯০ জনের বহর নিয়ে অক্টোবরের ফিফা উইন্ডোতে বাংলাদেশে আসার প্রস্তাব দিয়েছে।
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মতো পরাশক্তি দল বাংলাদেশে আসা নিঃসন্দেহে বড় অর্জন বলে স্বীকার করেন আমিনুল হক। তবে এই ধরনের একটি প্রদর্শনীর ম্যাচ দেশের ফুটবলের রাতারাতি কোনো পরিবর্তন আনবে না বলে মনে করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বিশ্বকাপের সময় দেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে বিপুল উন্মাদনা থাকে। ম্যাচটি হলে ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ হবে, দর্শকরা আনন্দ পাবেন। কিন্তু একটি প্রীতি ম্যাচ খেললেই যে বাংলাদেশের ফুটবলের আমূল পরিবর্তন আসবে, এই ভাবনার সঙ্গে আমি একমত নই। দেশের ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য অবকাঠামোগত সংস্কার এবং তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরির দিকেই আমাদের মনোযোগ দিতে হবে।"