গত দেড় বছর যেন হুলিয়ান আলভারেজের জীবনের সবচেয়ে সুসময়। গেল বছরের শুরুতেও আর্জেন্টিনার ক্লাব রিভার প্লেটে খেলতেন এ তরুণ স্ট্রাইকার। ২২তম জন্মদিন অর্থাৎ ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি জানতে পারেন, ২০২২-২৩ মৌসুমে তিনি প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলা হচ্ছে তার।
ম্যানচেস্টার সিটির মূল একাদশে নিয়মিত জায়গা হয় না, তবে মাঠে নামার সুযোগ পেলেই নিজেকে উজাড় করে দিচ্ছেন আলভারেজ। শনিবার (১০ জুন) সেই ম্যানসিটি জিতে নিল উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। তার আগে গত ডিসেম্বরে আলভারেজের আর্জেন্টিনা জেতে পরম প্রার্থিত ফিফা বিশ্বকাপ।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে আলভারেজ মাঠে নামেননি। তাতে অবশ্য নতুন কীর্তি আটকে থাকেনি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আগে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ আর এফএ কাপের শিরোপা জয়েরও স্বাদ পেয়েছেন এ তরুণ আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। ফলে ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের সঙ্গে ইউরোপিয়ান কাপ, লিগ এবং ঘরোয়া কাপের শিরোপা জেতের কীর্তি গড়লেন আলভারেজ।
সর্বশেষ গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ম্যানচেস্টার সিটিতে পা রেখে আর্লিং ব্রাউট হাল্যান্ডের অতিমানবীয়তায় আলভারেজ খুব কম সময়ই মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন। তবে স্বীয় কৃতিত্বে ঠিকই আর্জেন্টিনার কাতার বিশ্বকাপগামী দলেও জায়গা হয় তার। নামের পাশে চার গোল নিয়ে টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে আর্জেন্টিনাকে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জেতাতেও অবদান রাখেন তিনি। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৭ গোল নিয়ে হাল্যান্ডের পর ২০২২-২৩ মৌসুমে ম্যানসিটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতাও আলভারেজই।
ইউরোপে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ও এর দক্ষিণ আমেরিকান সংস্করণ কোপা লিবার্তাদোরেস জেতা ত্রয়োদশ খেলোয়াড় আলভারেজ। তার আগে এ কীর্তি গড়া ১২ জন হলেন- পাবলো সরিন, কাফু, দানিলো, দিদা, নেইমার, রোনালদিনহো, রাফিনহা, রোকু জুনিয়র, ডেভিড লুইজ, রামিরেস, কার্লোস তেভেজ ও ওয়াল্টার স্যামুয়েল। এদের মধ্যে ডেভিড লুইজ, রামিরেস, কার্লোস তেভেজ এ নজির গড়েছিলেন ইংলিশ ক্লাবের হয়ে। তেভেজ আর স্যামুয়েলের পর আলভারেজ এ তালিকায় তৃতীয় আর্জেন্টাইন।
একই মৌসুমে ইউরোপিয়ান ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া দ্বাদশ খেলোয়াড় আলভারেজ। একই সুযোগ ছিল ইন্টার মিলানের অধিনায়ক এবং আলভারেজের জাতীয় দলের সতীর্থ লাউতারো মার্টিনেজের সামনেও। আলভারেজের আগে ১১ জন খেলোয়াড় এক মৌসুমে ইউরোপিয়ান কাপ বা চ্যাম্পিয়নস লিগ ও বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়েছেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যেই কেউই সেই একই মৌসুমে ক্লাবের হয়ে ঘরোয়া কাপ জিততে পারেননি।
একই মৌসুমে বিশ্বকাপ ও ইউরোপের সর্বোচ্চ ক্লাব আসরের শিরোপা জেতার প্রথম ঘটনা দেখা যায় ১৯৭৪ সালে। ওই বছর জার্মান পরাশক্তি বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (তৎকালীন ইউরোপিয়ান কাপ) জেতেন ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, সেপ মায়ার, জার্ড মুলার, পল ব্রেইটনার, হ্যান্স গর্গ সোয়ার্জেনবেক, উলি হোয়েনেস ও ইয়ুপ কাপেলমান। মাস দুয়েকের মধ্যেই এই সাত ফুটবলার জার্মানির হয়ে ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পান।
একই মৌসুমে কোনো খেলোয়াড়ের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের পরের নজির দেখা যায় দুই যুগ পর। ১৯৯৮ সালে রিয়ালের জার্সিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পর বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্সের স্কোয়াডে ছিলেন ক্রিস্টিয়ান কারেম্বেউ। পরবর্তীতে এ তালিকায় যোগ হয় আরও তিনজনের নাম। তারা হলেন- রবার্তো কার্লোস (২০০২ সালে, রিয়াল মাদ্রিদ ও ব্রাজিল), স্যামি খেদিরা (২০১৪ সালে, রিয়াল মাদ্রিদ ও জার্মানি) এবং রাফায়েল ভারান (২০১৮ সালে, রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্স)।