আরও একটি নতুন রেকর্ড গড়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি।
শনিবার (১২ আগস্ট) লিগস কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে শার্লট এফসির বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ৪-০ ব্যবধানে জয় পাওয়া ম্যাচের শেষদিকে গোল করেন মেসি। এর মাধ্যমে মার্কিন ক্লাবটির জার্সিতে টানা পাঁচ ম্যাচে গোলের দেখা পান ৩৬ বছর বয়সী এ আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। সেই সঙ্গে তিনি ঢুকে পড়েছেন ফুটবলের বিরল এক কীর্তির ছোট তালিকাতেও।
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফুটবল হিস্ট্রি অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিকস (আইএফএফএইচএস) জানিয়েছে, ফুটবল ইতিহাসের পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি ভিন্ন দশকে অন্তত ১০০টি গোল করেছেন মেসি। মেসির আগে এই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন আলফ্রেডো ডি স্টেফানো, ফেরেঙ্ক পুসকাস, পেলে এবং রোমারিও।
মেসি তার ক্যারিয়ারের প্রথম দশকে (২০০১-২০১০) ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে মেসি ১৬৯টি গোল করেছিলেন, যার মধ্যে বার্সেলোনার জার্সিতে ১৫৪টি ও আর্জেন্টিনার হয়ে ১৫টি। মেসি তার ক্যারিয়ারের সুবর্ণ পার করেছেন ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে তিনি ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে তিনি ৫৪৬টি গোল করেছিলেন। এর মধ্যে বার্সার হয়ে ৪৯০টি ও আলবিসেলেস্তেদের হয়ে ৫৬টি গোল করেন মেসি। শার্লটের বিপক্ষে গোলের মাধ্যমে ২০২১ থেকে শুরু হওয়া চলমান দশকে শততমবারের মধ্যে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ান মেসি।
ক্যারিয়ারে ক্লাব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদ, এসপানিওল এবং জাতীয় দলে স্পেন ও আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠ মাতিয়েছেন আলফ্রেডো ডি স্টেফানো। এর মধ্যে প্রথম দশকে (১৯৪১–১৯৫০) ১১৫টি, দ্বিতীয় দশকে (১৯৫০-১৯৬০) ৩১৫টি আর তৃতীয় অর্থাৎ শেষ দশকে (১৯৬০-১৯৭০) ১০১টি গোল করেন ফুটবল ইতিহাসে সুপার ব্যালন ডি অর জেতা একমাত্র এ খেলোয়াড়।
ডি স্টেফানোর পরের নামটি ফেরেঙ্ক পুসকাস। ক্যারিয়ারে ক্লাব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদ, বুদাপেস্ট হনভেড আর জাতীয় দলে হাঙ্গেরি ও স্পেনের হয়ে তিনি আলো ছড়িয়েছেন। এর মধ্যে প্রথম দশকে (১৯৪১–১৯৫০) ২৯৪টি, দ্বিতীয় দশকে (১৯৫০-১৯৬০) ২৭৫টি আর তৃতীয় অর্থাৎ শেষ দশকে (১৯৬০-১৯৭০) ১৫৫টি গোল করেন গ্যালোপিং মেজর খ্যাত এ ফরোয়ার্ড।
তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে এ তালিকায় নাম লেখান ফুটবলের রাজা ও কালো মানিক খ্যাত পেলে। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ক্লাবে সান্তোস, নিউইয়র্ক কসমস আর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিলের হয়ে খেলে ফুটবলে অমরত্ব পেয়েছেন গত বছরে পরলোকে পাড়ি জমানো এ ব্রাজিলিয়ান। তিনি ক্যারিয়ারের প্রথম দশকে (১৯৫১–১৯৬০) ২২৫টি, দ্বিতীয় দশকে (১৯৬০-১৯৭০) ৪৩৭টি আর তৃতীয় অর্থাৎ শেষ দশকে (১৯৭০-১৯৮০) ১০০টি গোল করেন।
পেলের পর দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান হিসেবে এ তালিকায় নাম ওঠে রোমারিওর। বর্ণময় ক্যারিয়ারে ক্লাব ফুটবলে ভাস্কো ডা গামা, পিএসভি আন্দেইহোভেন, বার্সেলোনা, ফ্ল্যামেঙ্গো, ভ্যালেন্সিয়া, ফ্লুমিনেন্স, আল সাদ, মিয়ামি এফসির মতো অসংখ্য দলে খেলেছেন এ ফরোয়ার্ড। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোমারিও খেলেছেন ব্রাজিলের হয়ে। ক্যারিয়ারের প্রথম দশকে (১৯৮১–১৯৯০) ১৬২টি, দ্বিতীয় দশকে (১৯৯০-২০০০) ৪০২টি আর তৃতীয় অর্থাৎ শেষ দশকে (২০০০-২০১০) ১৯১টি গোল করেন এ ব্রাজিলিয়ান।
ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি ভিন্ন দশকে অন্তত ১০০টি গোল করার সুযোগ রয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সামনে। ক্যারিয়ারের প্রথম দুই দশকে (২০০১-২০১০) ও (২০১১-২০২০) অন্তত ১০০টি করে গোলের শর্ত পূরণ করেছেন সিআর সেভেন। ২০২১ থেকে শুরু হওয়া চলমান দশকে ইতোমধ্যে ৮৬ গোল করে ফেলেছেন এই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড।