মামলা মাথায় নিয়ে কী যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে পারবেন মাশরাফি?

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র টি-টেন লীগের “ডেট্রয়েট ফ্যালকনস” দলে ডাক পেয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের এই নেতার বিরুদ্ধে নড়াইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে গুলি, বোমা বিস্ফোরণ ও মারধরের অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে মামলা হয়েছে। এরপর থেকে প্রশ্ন উঠেছে তিনি দেশের বাহিরে এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবেন কী না? 

যুক্তরাষ্ট্রের টি-টেন মাস্টার্স টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় মৌসুম শুরু হচ্ছে ৮ নভেম্বর। যতদূর জানা গেছে, মামলা হলেও এখন অব্দি মাশরাফির দেশ ত্যাগের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। যদি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে হয়তো টি-টেন লিগে খেলা হবে না মাশরাফির। তবে সরকার ও বিসিবি আন্তরিক হলে সাকিবের মতো মাশরাফিরও খেলতে কোনও ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

মাশরাফির মতো সাকিব আল হাসানও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন। সাকিবের বিরুদ্ধেও হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সাকিব গত কয়েক মাস ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। দেশের বাইরে থেকেই জাতীয় দলের হয়ে খেলায় অংশ নিচ্ছেন। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে সিরিজে অংশ নেবেন। এই মুহূর্তে ইংল্যান্ডে সারের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেট খেলছেন। বাঁহাতি এই অলরাউন্ডারের ব্যাপারে সব ধরনের আইনী সহায়তার আশ্বাস দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সাকিব চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার হওয়াতে সেই সুযোগ হয়তো পাচ্ছেন। কিন্তু মাশরাফি চুক্তিবদ্ধ নন। মাশরাফির ব্যাপারে বিসিবি এই ধরনের কোন পদক্ষেপ কি নেবে? এই প্রশ্নে বিসিবির কাছ থেকে অবশ্য সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিবির একজন পরিচালক অনলাইন সংবাদ মাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, “সাকিবের ব্যাপারে বোর্ড সিদ্ধন্ত নিয়েছে। মাশরাফির ব্যাপারেও বোর্ডে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমার ব্যক্তিগত মতামত এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়।”

মামলার ১ নম্বর আসামি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুব ও ক্রিড়া সম্পাদক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তিনি জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ। ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে মাশরাফির বাবা গোলাম মুর্তজাকে। ৩ ও ৪ নম্বর আসামি হিসেবে রয়েছেন যথাক্রমে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবাস চন্দ্র বোস ও সাধারণ সম্পাদক নিজামুদ্দিন খান।