ইউটিউবে মিস্টার বিস্ট’র সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা বাংলাদেশের জনসংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি

ইউটিউবের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়লেন জিমি ডোনাল্ডসন, যিনি মিস্টার বিস্ট নামেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত। সম্প্রতি তিনি ইউটিউবে ৪০০ মিলিয়ন (৪০ কোটি) সাবস্ক্রাইবারের মাইলফলক স্পর্শ করে এই রেকর্ড গড়েছেন। যা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার দ্বিগুণের চেয়েও বেশি।

অভূতপূর্ব এই অর্জন উদযাপন করতে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে তৈরি করেছে একটি নতুন প্লে বাটন—যা দেওয়া হয়েছে মিস্টার বিস্ট। ইউটিউবের সিইও নীল মোহন নিজেই তাকে হাতে তুলে দেন এই সম্মাননা।

সাধারণত ইউটিউব কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ১ লাখ, ১০ লাখ, বা ১ কোটি সাবস্ক্রাইবার পার হলে সিলভার, গোল্ড বা ডায়মন্ড প্লে বাটন প্রদান করা হয়। কিন্তু মিস্টার বিস্টের ৪০০ মিলিয়নের রেকর্ডের জন্য বানানো হয়েছে একেবারে আলাদা ডিজাইনের একটি পুরস্কার—ধাতব ফ্রেমে ঘেরা এবং মাঝে বসানো হয়েছে উজ্জ্বল নীল রঙের রত্নখচিত অংশ।

সামাজিক মাধ্যমে সেই বিশেষ পুরস্কারের ছবি শেয়ার করে মিস্টার বিস্ট লেখেন, “৪০০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার প্লে বাটন! ধন্যবাদ ইউটিউব।”

সিইও নীল মোহন এক্সে লিখেছেন, “তুমি এত দ্রুত বড় হচ্ছো যে তোমার জন্য নতুন অ্যাওয়ার্ড বানাতে হলো!”

২০২৫ সালের ১ জুন মিস্টার বিস্টের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা হয় ৪০০ মিলিয়ন। টি-সিরিজকে পেছনে ফেলে বর্তমানে বিশ্বের সেরা ইউটিউবার জিমি। টি-সিরিজের বর্তমান সাবস্ক্রাইব ৩০০ মিলিয়ন। ১ জুন জিমি লিখেছেন, “৪০০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার! ১০ বছর আগে আমাকে সবাই বলেছিল, আমি কখনো সফল হতে পারব না। তারপরেও আমি কনটেন্ট বানিয়েছি। কেউ দেখেনি, তবু ৭ বছর ধরে কাজ করেছি।”

এক পোস্টে মিস্টার বিস্ট তিনি লেখেন, “৪০০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার! দশ বছর আগে যখন আমি ইউটিউবে ছিলাম, সবাই বলত আমি খুব বেশি ‘অবসেসড’। তখন আমি মাকে বলেছিলাম—আমি গৃহহীন থাকলেও ঠিক আছে, কিন্তু আমি অন্য কিছু করব না। আজ আমি প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠি একটা উদ্দেশ্য নিয়ে—এটাই জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার। ইউটিউব ও তোমাদের (দর্শক) জন্যই এটা সম্ভব হয়েছে।”

২০২৫ সালের মে মাসে এই ইউটিউবারের সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ৩০-এর নিচে বয়সীদের মধ্যে তিনিই বিশ্বের কনিষ্ঠ স্ব-নির্মিত বিলিয়নিয়ার।

তার কোম্পানি বিস্ট ইন্ড্রাস্ট্রিজ ২০২৪ সালে আয় করেছে প্রায় ৪৭৩ মিলিয়ন ডলার, যা এ বছর দ্বিগুণ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। ইউটিউব ছাড়াও তার রয়েছে বার্গার চেইন, স্ন্যাকস ব্র্যান্ড, টেক বিনিয়োগ ও দাতব্য প্রকল্প—সব মিলিয়ে তিনি এখন বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী অনলাইন উদ্যোক্তাদের একজন।