Saturday, July 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এআই নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন শীর্ষ এআই বিজ্ঞানী নিজেই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কি মানব সভ্যতাকে ছাড়িয়ে যাবে? বিশ্বজুড়ে এটি নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কি মানব সভ্যতাকে ছাড়িয়ে যাবে? বিশ্বজুড়ে যখন এই তুমুল বিতর্ক চলছে, ঠিক তখনই এআই জগতের অন্যতম শীর্ষ পথপ্রদর্শক ইয়ান লেকুনের কণ্ঠে শোনা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর। চ্যাটজিপিটি বা জেমিনাইয়ের মতো বর্তমান প্রজন্মের এআই প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা নিয়ে চাঁছাছোলা ভাষায় সমালোচনা করেছেন তিনি।

ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা’র সাবেক এই প্রধান এআই-বিজ্ঞানী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “বাস্তব জগতকে বোঝার সক্ষমতায় আমাদের তৈরি রোবটগুলো একটি ইঁদুরের ধারেকাছেও নেই।”

দীর্ঘ এক দশক মেটায় কাজ করার পর ২০২৫ সালে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিষ্ঠা করেন ‘অ্যাডভান্সড মেশিন ইন্টেলিজেন্স ল্যাবস’ (এএমআই ল্যাবস)। ফ্রান্সের প্রযুক্তি সম্মেলন ‘ভিভাটেকে’ লেকুন বলেন, বর্তমান চ্যাটবট বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো (এলএলএম) কেবল তথ্য জমা করে রাখতে এবং সুনির্দিষ্ট কিছু অনুমানযোগ্য কাজের পুনরাবৃত্তি করতে পারে। কিন্তু বাস্তব জগতের জটিলতা বা পদার্থবিজ্ঞানের সাধারণ নিয়ম বোঝার মতো কোনো মৌলিক বোধগম্যতা এদের নেই।

লেকুনের মতে, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো কোডিং, গণিত বা লেখা তৈরির কাজে দক্ষ হলেও রোবোটিকসের ক্ষেত্রে এগুলো পুরোপুরি অকার্যকর। একটি সাধারণ উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটি খাড়া কলম ছেড়ে দিলে সেটি নিচে পড়বে, তা যেকোনো মানব শিশু বোঝে। কিন্তু সেটি কোন দিকে পড়বে, তা নিখুঁতভাবে বলা অসম্ভব। একটি এলএলএম তার পরিসংখ্যানগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এর একটি আনুমানিক উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবে, যা ভুল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ এটি পদার্থবিজ্ঞানের বাস্তব নিয়ম বোঝে না, শুধু শব্দের পর শব্দ সাজাতে পারে। আর এই কারণেই কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগের পরও একটি রোবটকে দিয়ে ঘরের সাধারণ কাজ, যেমন: কাপড় ইস্তিরি করা বা বাসন মাজার মতো কাজ করানো বর্তমান এআইয়ের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

চ্যাটজিপিটির প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে প্যারিসভিত্তিক এএমআই ল্যাবস এখন ‘জয়েন্ট এমব্যাডিং প্রেডিক্টিভ আর্কিটেকচার’ (জেপিএ) নামের এক নতুন সিস্টেম নিয়ে কাজ করছে। এটি মূলত জটিল গণিতের ওপর ভিত্তি করে বাস্তব জগতের একটি বিমূর্ত রূপ তৈরি করবে, যা অপ্রয়োজনীয় তথ্য বাদ দিয়ে যেকোনো কাজের সম্ভাব্য ফলাফল মূল্যায়ন করতে পারবে।

বিনিয়োগকারীরাও লেকুনের এই নতুন ভাবনায় বিপুল সম্ভাবনা দেখছেন। চলতি ২০২৬ সালেই এএমআই ল্যাবস চিপ নির্মাতা জায়ান্ট ‘এনভিডিয়া’ এবং অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি (১ বিলিয়ন ডলার) মূলধন সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছে, যা ইউরোপের স্টার্টআপ খাতের অন্যতম বড় ঘটনা।

লেকুনের এই ধারণার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত এআই ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ইঙ্গমার পোসনার। তিনি মনে করেন, আগামী দশকটি হবে ব্যাখ্যামূলক প্রযুক্তির। পোসনার ও তাঁর দল গত চার বছর ধরে ‘ওয়ার্ল্ড মডেল’ নামের একটি বিকল্প এআই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। এই প্রযুক্তির লক্ষ্য হলো, মেশিন লার্নিংকে কাজে লাগিয়ে এআই যেন বাস্তব জগতের একটি ‘মানসিক সিমুলেশন’ বা নিজস্ব চিত্র তৈরি করে কাজ শিখতে পারে। গুগলও তাদের ‘ড্রিমা ওয়ার্ল্ড মডেল’ নিয়ে এই দৌড়ে শামিল হয়েছে।

পোসনারের দল এখন ‘মেকানিস্টিক ওয়ার্ল্ড মডেল’ নিয়ে কাজ করছে, যা জ্ঞানকে এমনভাবে গুছিয়ে রাখবে যেন এআই নিজে থেকে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে এই প্রযুক্তি পুরোপুরি বাস্তবে রূপ নিতে কতদিন লাগবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। অধ্যাপক পোসনার স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, "২০১৭ সালেও কেউ ভাবেনি চ্যাটজিপিটির মতো প্রযুক্তি এত দ্রুত চলে আসবে, কিন্তু ২০২২ সালেই তা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। তাই বিকল্প এআইয়ের ভবিষ্যৎও হয়তো আমাদের ধারণার চেয়ে অনেক কাছে।"

   

About

Popular Links

x