Saturday, June 27, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পাখির ভাষা বুঝে ১ লাখ ডলারের পুরস্কার জিতলেন যিনি

শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে 

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম

পাখির ভাষা ডিকোড (বিশ্লেষণ) করে ১ লাখ ডলারের (প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা) সম্মানজনক ‘কলার-ডুলিটল প্রাইজ ফর টু-ওয়ে ইন্টারস্পিশিস কমিউনিকেশন’ পুরস্কার জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী ড. জুলি এলি।

‘ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে’র এই গবেষক দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় গবেষণার পর ‘জেব্রা ফিঞ্চ’ পাখির ডাকের ১১টি মূল শব্দ ও সেগুলোর নিখুঁত অর্থ বের করতে সক্ষম হয়েছেন।

শুক্রবার (২৬ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।    

প্রতিবেদন আরও বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর সহায়তায় করা এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে প্রাণীদের সঙ্গে মানুষের সরাসরি দ্বিমুখী যোগাযোগের পথকে সুগম করে তুলবে।

এআই প্রযুক্তিতে জানা গেল পাখির মনের কথা

ড. জুলি এলি তার গবেষণার জন্য জেব্রা ফিঞ্চ পাখিকে বেছে নেন, কারণ এই চঞ্চল গানের পাখিরা প্রচুর কিচিরমিচির করে, যা গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত ডাটা বা তথ্য জোগাতে সাহায্য করেছে। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তিনি এই পাখিদের হাজার হাজার ডাক রেকর্ড ও পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ‘মেশিন লার্নিং’ অ্যালগরিদমের সাহায্যে এই ডাকগুলোর অর্থ বিশ্লেষণ করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, জেব্রা ফিঞ্চ পাখিরা সুনির্দিষ্ট শব্দের মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় দেয় এবং কে কী করছে তা অন্য পাখিদের জানায়। এমনকি মানুষের মতোই প্রত্যেকের নিজস্ব স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর বা ‘সিগনেচার টোন’ শুনে এরা একে অপরকে আলাদাভাবে চিনতে পারে।

পাখিরা আসলেই এই শব্দগুলোর অর্থ বোঝে কি না, তা নিশ্চিত করতে ড. জুলি একটি অভিনব পরীক্ষা শুরু করেন। এ পরীক্ষায় জেব্রা ফিঞ্চ পাখিরা একটি বোতামে চাপ দিলে তাদের পরিচিত বিভিন্ন ডাকের মধ্য থেকে বিভিন্ন শব্দ শোনানো হত। কিছু নির্দিষ্ট ডাকের পর পুরস্কার হিসেবে তাদের কিছু বীজ বা খাবার দেওয়া হলো।

পরীক্ষাটি যত এগোতে থাকলো বীজ পাওয়া যাবে না এমন বিভিন্ন ডাক এড়াতে বোতাম চেপে সেগুলো ‘স্কিপ’ বা বাদ দেওয়া শিখে গেল পাখিরা। 

ড. জুলি এলি বলেন, “বিষয়টি অনেকটা সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও স্ক্রোলিংয়ের মতো, ভিডিওর শুরুটা বিরক্তিকর মনে হলে মানুষ যেমন সেটি টেনে পরেরটায় চলে যান পাখিরাও ঠিক তাই করেছে।”

২০৩০ সালের মধ্যেই ভাঙবে মানুষের সঙ্গে প্রাণীর যোগাযোগের দেয়াল

প্রাণী কল্যাণ ও প্রাণীদের অনুভূতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ‘তেল আবিব ইউনিভার্সিটি’র সঙ্গে যৌথভাবে ২০২৪ সালে এই পুরস্কারের প্রবর্তন করে ‘জেরেমি কলার ফাউন্ডেশন’। বার্ষিক ১ লাখ ডলারের এই পুরস্কারের পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে প্রাণীদের দ্বিমুখী যোগাযোগের সমস্যাটি পুরোপুরি সমাধানের জন্য ফাউন্ডেশনটি ১ কোটি ডলারের (১০০ কোটি টাকারও বেশি) একটি মেগা পুরস্কারও ঘোষণা করে রেখেছে।

বিচারক প্যানেলের চেয়ারম্যান ও তেল আবিব ইউনিভার্সিটির প্রাণিবিজ্ঞানী অধ্যাপক ইয়োসি ইয়োভেল এই গবেষণাকে এই খাতের একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি মনে করেন, দ্বিমুখী যোগাযোগের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে এখনও দীর্ঘ পথ বাকি।

যদিও পুরস্কারের পেছনে থাকা ব্রিটিশ বিলিয়নেয়ার ফাইন্যান্সিয়ার জেরেমি কলার এই বিষয়ে অনেক বেশি আশাবাদী।

তিনি বলেন, “এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে প্রাণীদের ভাষা বুঝতে পারাটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ২০৩০ সালের মধ্যেই আমরা এই কোড সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলতে পারবো, যা মানবজাতি এবং প্রাণীজগৎ উভয়ের জন্যই এক যুগান্তকারী বিষয় হবে।”

   

About

Popular Links

x