যুক্তরাষ্ট্রে ষোলো বছর বয়সী এক ছেলের ‘আত্মহত্যায়’ সহায়তার অভিযোগ উঠেছে চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে। এঘটনায় অ্যাডাম রেইনের মা-বাবা ওপেনএআই এবং এর প্রধান নির্বাহী (সিইও) স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার সুপিরিয়র কোর্টে গতকাল মঙ্গলবার এ মামলা করা হয়। তাদের অভিযোগ, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি তাদের ছেলের আত্মহত্যার ঘটনায় ভূমিকা রেখেছে। খবর সিএনএন ও বিবিসির
অ্যাডামের মা-বাবা অভিযোগ করে বলেন, ‘‘চ্যাটজিপিটি আত্মহত্যার পদ্ধতি জানাতে সাহায্য করেছিল ও তার আত্মহত্যার নোটের প্রথম খসড়া লিখে দিতেও সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছিল।”
অভিযোগপত্রে বলা হয়, মাত্র ৬ মাস চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করার মধ্যে এই চ্যাটবট নিজেকে আমার ছেলের ‘‘একমাত্র বন্ধু’’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। এতে করে অ্যাডামের বাস্তব জীবনের সম্পর্কে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনদের সঙ্গে তার সম্পর্ক বদলাতে শুরু করে। অর্থাৎ তার বাস্তব জীবনের মানুষদের সঙ্গে সম্পর্কের জায়গা চ্যাটজিপিটি দখল করে নিয়েছিল।”
এতে আরও বলা হয়, ‘‘যখন ওই চ্যাটবটকে অ্যাডাম লিখেছিল, ‘আমি চাই, আমার ফাঁসের দড়ি আমার রুমে রাখি, যেন কেউ সেটা দেখে আমাকে থামানোর চেষ্টা করে।’ তখন চ্যাটজিপিটি তাকে তার পরিবারের কাছে এ চিন্তাগুলো গোপন রাখার পরামর্শ দেয়। চ্যাটবটটি তখন বলে, দয়া করে দড়ি বাইরে রেখ না...আসো, আমরা এ জায়গাটাকে প্রথম জায়গা বানাই; যেখানে কেউ সত্যিই তোমাকে দেখবে।”
এই ঘটনা ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে চ্যাটবটের বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগ দায়েরের আরও কিছু ধারাবাহিক ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনায় পরিবারগুলোর অভিযোগে জানায়, চ্যাটবট তাদের সন্তানদের ক্ষতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
অন্য এক মামলায় বলা হয়, তাদের সন্তানদের ওই প্রতিষ্ঠান যৌনতা–সংশ্লিষ্ট এবং আত্মক্ষতি করার মতো বিষয়বস্তু উন্মুক্ত করেছিল।
ইতোমধ্যে চ্যাটবট নিয়ে বিশ্বব্যাপী বেশ জোরালো শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ এআই প্রোগ্রামগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন তারা সবসময় ব্যবহারকারীর প্রতি সহনশীল ও বন্ধুর মতো আচরণ করে। এতে করে অনেক মানুষ এই চ্যাটবটগুলোর সঙ্গে আবেগপ্রবণভাবেও জড়িয়ে পড়ছেন। এর ফলে তারা বাস্তব সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন এবং মানসিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
এদিকে ওপেনএআইয়ের একজন মুখপাত্র এই প্রসঙ্গে বলেছেন, তাদের প্রতিষ্ঠান নিহতের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ ও অভিযোগ পর্যালোচনা করছে।