আইফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ফিচারের সক্ষমতা নিয়ে চটকদার বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলা নিষ্পত্তিতে ২৫ কোটি ডলার দিতে রাজি হয়েছে অ্যাপল। এই অর্থ পাবে যুক্তরাষ্ট্রের আইফোন ক্রেতারা।
বুধবার (৬ মে) বিবিসির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যারা আইফোন ১৫ এবং আইফোন ১৬ কিনেছেন, তারা প্রত্যেকে ২৫ থেকে ৯৫ ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাবেন।
গত মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে এই সমঝোতা প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়। অ্যাপল কোনো ধরনের দায় স্বীকার না করলেও গত বছর দায়ের করা একটি সমন্বিত ‘ক্লাস অ্যাকশন’ মামলার দাবি মেটাতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দিতে সম্মত হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল, আইফোনের এআই ফিচার নিয়ে অ্যাপল ‘মিথ্যা বিজ্ঞাপন’ প্রচার করেছে। কোম্পানিটি তাদের এসব ফিচারকে ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ নামে অভিহিত করেছিল, যার মধ্যে ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘সিরি’র উল্লেখযোগ্য উন্নতির প্রতিশ্রুতিও ছিল।
আইনজীবীরা বলেন, এআই ফিচার নিয়ে অ্যাপলের প্রচার মূলত প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনের সমতুল্য। অভিযোগে বলা হয়, ‘অ্যাপল এমন সব এআই সক্ষমতার প্রচার চালিয়েছে যা সেই সময়ে বিদ্যমান ছিল না, এমনকি এখনো নেই। এসব ফিচার বাস্তবে আসতে অন্তত দুই বছর বা তার বেশি সময় লাগতে পারে। অথচ তারা একে যুগান্তকারী উদ্ভাবন হিসেবে বিপণন করেছে।’
ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিকের মতো নতুন কোম্পানিগুলো যখন এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন তাদের সঙ্গে তাল মেলাতেই অ্যাপল তড়িঘড়ি করে এই এআই প্রচার শুরু করেছে বলে দাবি আইনজীবীদের।
অ্যাপল বিজ্ঞাপন প্রচারের সময় দাবি করেছিল, অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স সিরিকে একটি সীমাবদ্ধ ভয়েস ইন্টারফেস থেকে পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিগত এআই রূপান্তর করবে। যা আদতে মিথ্যা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে, আইনজীবীরা বলছেন, আইফোন ১৬ গ্রাহকদের হাতে পৌঁছেছে- অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স ছাড়াই।