এক বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চলতি সপ্তাহেই বাজারে আসছে বহুল আলোচিত ‘ট্রাম্প মোবাইল’।
বুধবার (২০ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত বছরের জুনে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন ঘোষণা দেয়, আগস্টের মধ্যে এই ফোন বাজারে আসবে এবং এ ঘোষণা দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০০ ডলার করে জামানত নিয়েছিল। তবে এরপর দীর্ঘ সময় ফোনটি নিয়ে নতুন কোনো তথ্য না আসায় তৈরি হয় ধোঁয়াশা।
প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজিস এর বিশ্লেষক ম্যাক্স ওয়েইনবাখ সিএনএনকে বলেন, ‘অ্যান্ড্রয়েড ফোন বাজারে আনতে কমপক্ষে ১৮ মাস সময় লাগে। সফটওয়্যার চূড়ান্ত করা, উৎপাদনকারী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই করতেই অনেক সময় লেগে যায়।’
ট্রাম্প মোবাইলের ওয়েবসাইটে ‘শর্তাধীনে’ ফোন ডেলিভারির কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, যারা ১০০ ডলার জামানত রেখে প্রিঅর্ডার করেছিলেন, তারা সবাই ফোনটি নাও পেতে পারেন। পরিবর্তিত শর্ত মতে, ১০০ ডলার জামানত রাখা মানেই এই নয় যে ইউজার ফোনটি পাবেন। এটি একটি ‘বিশেষ শর্তের আওতায় পাওয়া সুযোগ’।
ওয়েবসাইটে এসব তথ্য প্রকাশের পর ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে ফোন ডেলিভারির বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন।
চীনা প্রযুক্তিতে নির্মিত টি-মোবাইল রেভেল ৭ প্রো ৫জি ফোনের সঙ্গে ‘ট্রাম্প মোবাইলের’ ডিজাইনের মিল রয়েছে বলে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা জানান। ওয়ালমার্টে ওই চীনা ফোনটি ২০০ ডলারে বিক্রি হলেও ট্রাম্প মোবাইলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৯৯ ডলার। এর আনুষ্ঠানিক নাম ‘ট্রাম্প মোবাইল টি১’।
ট্রাম্পের ব্র্যান্ড ও সোনালী অবয়ব যথাস্থানে থাকলেও, আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় বলা সবগুলো ফিচার চূড়ান্ত মডেলে থাকছে না। তুলনামূলকভাবে ছোট স্ক্রিন ও কম মেমোরি থাকবে এতে।
ট্রাম্প মোবাইলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্যাট ও’ব্রায়েন জানান, গুণগত মান ঠিক রেখে দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধাপে ধাপে এই ফোন গ্রাহকদের সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে ফোনটি নিয়ে প্রযুক্তি বাজারে বেশ কিছু বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। শুরুতে এই ফোনটিকে ‘মেইড ইন ইউএসএ’ বলে প্রচারণা চালানো হলেও পরবর্তীতে সেই অবস্থান থেকে সরে আসে প্রতিষ্ঠানটি।
ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশনের ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডিভাইস ট্র্যাকার বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট রায়ান রেইথ সিএনএনকে বলেন, “এ ধরনের শব্দগুলো বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য ব্যবহার করা হয়।”
বিশ্লেষকদের মতে, ফোনের ডিজাইন বা নকশা ‘আমেরিকান’ হলেও এর ছোট ছোট আনুষঙ্গগুলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়।
বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টের নাম ব্যবহার করে বাণিজ্যিক পণ্য বিক্রির নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই ছেলে এরিক ও ডোনাল্ড জুনিয়র এই ফোন বিতরণের দায়িত্বে রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্জনকে স্মরণীয় রাখতে এই স্বর্ণখচিত ফোনের ডেটা ও ভয়েস প্যাকেজের মূল্য ধরা হয়েছে ৪৭ ডলার ৪৫ সেন্ট।